<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss  xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" 
      xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" 
      xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" 
      xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" 
      version="2.0">
<channel>
<title>বিশ্ব ডট কম</title>
<link>https://www.bishwo.com/abdullah-adil-mahmud.html</link>
<atom:link href="https://www.bishwo.com/abdullah-adil-mahmud.xml" rel="self" type="application/rss+xml"/>
<description></description>
<generator>quarto-1.9.37</generator>
<lastBuildDate>Fri, 24 Apr 2026 18:00:00 GMT</lastBuildDate>
<item>
  <title>সেরেস: গ্রহাণু নাকি বামন গ্রহ?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/ceres-asteroid-or-dwarf-planet.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>সেরেস পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের বামন গ্রহ। আবিষ্কারের পরপর তো একে গ্রহই মনে করা হয়েছিল। ১৮০১ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ইতালীয় জ্যোতির্বিদ জিওযেপ্পে পিয়াৎসি বস্তুটি আবিষ্কার করেন। গ্রহাণু বেষ্টনীতে অবস্থিত একমাত্র বামন গ্রহ এটি। এ কারণেই শুরুতে পরে এর পরিচয় দাঁড়ায় গ্রহাণু। তবে বর্তমানে এটি বামন গ্রহ হিসেবেই পরিচিত।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/ceres.jpg" class="img-fluid figure-img" style="width:60.0%"></p>
<figcaption>বামন গ্রহ সেরেস</figcaption>
</figure>
</div>
<p>এটি ছাড়া আর কোনো বামক্ন গ্রহ সূর্যের রত কাছে নেই। নেপচুনের কক্ষপথের ভেতরেই নেই আর কোনো বামন গ্রহ। সৌরজগতের পরবর্তী বামন গ্রহ প্লুটো আছে নেপচুন গ্রহের পরেই।</p>
<p>সেরেস চাঁদের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ চওড়া। আকাশ অনেক বেশি অন্ধকার না হলে একে খালি সাধারণত দেখা যায় না। ২০১৫ সালে নাসার ডন মহাকাশযান সেরেসকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে। এসময়ে এই যানটিই প্রথমবারের মতো সেরেসকে প্রদক্ষিণও করে। যানটি সেরেসের পৃষ্ঠে পানি ও বরফসহ বিভিন্ন খনিজের প্রমান পায়। বামন গ্রহটির খুবই পাতলা একটি বাষ্পীয় বায়ুমণ্ডল আছে।</p>
<p>অষ্টাদশ শতকে সৌরকেন্দ্রিক নমুনা স্বীকৃত হয়। ১৮৪৬ সালে পাওয়া যায় নেপচুন গ্রহ। তখনি জ্যোতির্বিদরা ধারণা করেন, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে আরেকটি গ্রহ আছে। শেষ পর্যন্ত পিয়াৎসি বস্তুটি আবিষ্কার করেন। এক শতকের বেশি সময়জুড়ে এটি গ্রহ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।</p>
<p>কিন্তু নতুন নতুন আবিষ্কারের সাথে সাথে বোঝা যায়, গ্রহদের সাথে গ্রহাণুদের কিছু মৌলীক পার্থক্য আছে। ১৮৫০ সালের পর তাই একে শুধুই গ্রহাণু বা হত। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি প্লুটোকে গ্রহের খাতা থেকে বাদ দেয়। প্রধান কারণ, নিজ্বস স্বাধীন কক্ষপথ না থাকা ও ক্ষুদ্র আকার। নতুন পরিচয় হয় বামন গ্রহ। একইসময় সেরেসও নাম লেখায় বামন গ্রহের খাতায়।</p>
<p>গ্রহাণু পরিচয়ের সেরেসই ছিল সবচেয়ে বড় গ্রহাণু। বর্তমানে নাসার মতে তাই সবচেয়ে বড় গ্রহাণু ভেস্টা। যদিও পুরো গ্রহাণুবেষ্টনীর ৪০ ভাগ ভর সেরেসের একার। এ বেষ্টনীতে অবস্থান হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই এটি আছে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে। সূর্যকে ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৪ বছর ২২০ দিন। প্রায় ৯ ঘণ্টায় এটি একবার নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘোরে৷ এর কোনো চাঁদ বা উপগ্রহ নেই।</p>
<p>মঙ্গল গ্রহ বা ইউরোপা ও টাইটান উপগ্রহদের মতো বাসযোগ্যতার আলোচনায় সেরেস অতটা আলোচিত হয় না। তবে অন্তঃস্থ সৌরজগতের পৃথিবীর পরে সবচেয়ে বেশি পানি আছে এই বস্তুটিতেই। এতে জৈবরাসায়নিক উপাদানের মধ্যে আছে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন।</p>
<p>সূত্র</p>
<ul>
<li><a href="https://science.nasa.gov/dwarf-planets/ceres">নাসা সায়েন্স: সেরেস</a></li>
<li><a href="https://science.nasa.gov/solar-system/asteroids/">নাসা সায়েন্স: গ্রহাণু</a></li>
<li><a href="https%3A%2F%2Fen.wikipedia.org%2Fwiki%2FCeres_(dwarf_planet)">উইকিপিডিয়া: সেরেস</a></li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <category>বামন গ্রহ</category>
  <category>গ্রহ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/ceres-asteroid-or-dwarf-planet.html</guid>
  <pubDate>Fri, 24 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/solar-system/ceres.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>গ্যানিমিড: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/ganymede.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>সৌরজগতের আটটি গ্রহের মোট উপগ্রহের সংখ্যা অন্তত ৪৬৭টি। যদিও বুধ ও শুক্র গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই। এদের সবার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভারী উপগ্রহের নাম গ্যানিমিড। সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিরই উপগ্রহ এটি। মজার ব্যাপার হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহটিও দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহের চারপাশে ঘোরে। সেটি আর কিছুই নয়, শনির উপগ্রহ টাইটান।</p>
<p>টাইটান ও গ্যানিমিড দুটো চাঁদই বুধ গ্রহের চেয়েও বড়। তবে গ্যানিমিডের পৃষ্ঠে মহাকর্ষ বুধ বা আমাদের চাঁদের চেয়েও কম। এর মূল কারণ, উপগ্রহটির নিম্ন ঘনত্ব। উপগ্রহটি সাত দিনে একবার বৃহস্পতিকে ঘুরে আসে।</p>
<p>১৬১০ সালের জানুয়ারি মাসের সাত তারিখে উপগ্রহটি আবিষ্কৃত হয়। একই সালে দুই আলাদা জ্যোতির্বিদ এটি পর্যবেক্ষণ করেন। একজন জার্মান জ্যোতির্বিদ সাইমন ম্যারিয়াস। প্রথম আবিষ্কৃত উপগ্রহের মধ্যে এটি তৃতীয়। অপর তিনটির নাম ক্যালিস্টো, আয়ো ও ইউরোপা। এদের আবিষ্কারের মাধ্যমেই প্রথম জানা যায়, মহাবিশ্বের সবকিছু পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না। দেখাই যাচ্ছে, এরা বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-left">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/ganymede-juno.jpg" class="img-fluid figure-img" style="width:70.0%"></p>
<figcaption>জুনে মহাকাশযানের চোখে গ্যানিমিড</figcaption>
</figure>
</div>
<p>জানুয়ারির ৭ তারিখেই গ্যালিলিও চারটি উপগ্রহকে একসাথে দেখেন৷ অবশ্য আয়ো ও ইউরোপা তখন কাছাকাছি থাকায় দুটোকে একটি বস্তুই মনে হচ্ছিল। তিনি প্রথম এদেরকে নক্ষত্র মনে করেছিলেন। পরের রাতে দেখলেন, এরা আগের জায়গা থেকে সরে গেছে। ১৩ তারিখে প্রথমবারের মতো সবগুলোকে আলাদাভাবে দেখলেন। জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে নিশ্চিত হয়ে যান, এরা আসলে বৃহস্পতির উপগ্রহ। কিছু বিতর্ক থাকলেও ধারণা করা হয় সাইমন ম্যারিয়াসও আলাদাভাবে চার গ্যালিলীয় উপগ্রহ খুঁজে পেয়েছিলেন।</p>
<p>গ্যানিমিডের প্রধান উপাদান সিলিকেট পাথর ও পানি। কেন্দ্রের কোরে আছে তরল ধাতব পদার্থ। অভ্যন্তরের সমুদ্রে সম্ভবত পৃথিবীর সব পানির চেয়েও বেশি পানি আছে। সৌরজগতের প্রাকৃতিক উপগ্রহদের মধ্যে একমাত্র গ্যানিমিডের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্র আছে। পাতলা বায়ুমণ্ডলে আছে অক্সিজেন।</p>
<p>আমাদের চাঁদ ও বেশিরভাগ উপগ্রহের মতো গ্যানিমিড সবসময় গ্রহের দিকে এক মুখ করে থাকে। বৃহস্পতিকে ঘুরছে ১০ লাখ ৭০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে। উপগ্রহটি ৫২৭০ কিলোমিটার চওড়া। ভর শনির উপগ্রহ টাইটানের চেয়ে খানিকটা বেশি। তবে আমাদের চাঁদের দ্বিগুণের বেশি। আকারে বুধের চেয়েও বড় হলেও ভর বুধের মাত্র ৪৫ ভাগ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-left">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/juno-ganymede.jpg" class="img-fluid figure-img" style="width:70.0%"></p>
<figcaption>শিল্পীর তুলিতে জুনো মহাকাশযান ও গ্যানিমিড</figcaption>
</figure>
</div>
<p>গ্যানিমিডকে কাছ থেকে প্রথম পর্যবেক্ষণ করে পাইওনিয়ার ১০ মহাকাশযান। ভয়েজার ১ ও ২ যান উপগ্রহটির আকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য উদ্ধার করে। মহাকাশযান গ্যালিলিও উপগ্রহটির সমুদ্র ও চৌম্বকক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ২০২৩ সালে গ্যানিমিডের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় JUICE অভিযান। এটি প্রথমবারের মতো উপগ্রহটিকে কেন্দ্র করে ঘুরবে। আগের সবাই শুধু পাশ দিয়ে এক বা একাধিকবার উড়ে গিয়েছিল।</p>
<ul>
<li><a href="https://spaceflightnow.com/2021/06/08/jupiters-moon-ganymede-seen-up-close-for-first-time-in-21-years/">স্পেসফ্লাইট</a></li>
<li>উইকিপিডিয়া: <a href="https://en.wikipedia.org/wiki/Ganymede_(moon)">গ্যানিউমিড</a>, <a href="https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_natural_satellites">উপগ্রহের তালিকা</a></li>
</ul>
<section id="রলটড-লখ" class="level3">
<h3 class="anchored" data-anchor-id="রলটড-লখ">রিলেটেড লেখা</h3>
<div class="quarto-layout-panel" data-layout="[[15, 50]]">
<div class="quarto-layout-row">
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 23.1%;justify-content: center;">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/saturn.jpg" class="img-fluid"></p>
</div>
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 76.9%;justify-content: flex-start;">
<p><a href="saturn-moons.html"><strong>শনি গ্রহের উপগ্রহ এখন কয়টি?</strong></a></p>
</div>
</div>
</div>
<hr>
<div class="quarto-layout-panel" data-layout="[[15, 50]]">
<div class="quarto-layout-row">
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 23.1%;justify-content: center;">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/ceres.jpg" class="img-fluid"></p>
</div>
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 76.9%;justify-content: flex-start;">
<p><a href="ceres-asteroid-or-dwarf-planet.html"><strong>সেরেস: গ্রহাণু নাকি বামন গ্রহ?</strong></a></p>
</div>
</div>
</div>
<hr>
<div class="quarto-layout-panel" data-layout="[[15, 50]]">
<div class="quarto-layout-row">
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 23.1%;justify-content: center;">
<p><img src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizYtljb3X3TLiSDvaCz3IBSClhWKRJguDT_xqpqBxoLW-oT1I4zpbiYya5IfsGW4yaEC6fpSmcq1qifh5fgwWC6w3U7330KqfeOk5_SzKKH5kPabNjICShMYWGFZtHSP9ksJUZr0xfaU4/s640/universe.jpg" class="img-fluid"></p>
</div>
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 76.9%;justify-content: flex-start;">
<p><a href="star-vs-universe.html"><strong>মহাবিশ্বের জন্মের আগের নক্ষত্র!</strong></a></p>
</div>
</div>
</div>
<hr>
<div class="quarto-layout-panel" data-layout="[[15, 50]]">
<div class="quarto-layout-row">
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 23.1%;justify-content: center;">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" class="img-fluid"></p>
</div>
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 76.9%;justify-content: flex-start;">
<p><a href="aldebaran.html"><strong>এ মাসের তারা: রোহিণী</strong></a></p>
</div>
</div>
</div>
<hr>
<div class="quarto-layout-panel" data-layout="[[15, 50]]">
<div class="quarto-layout-row">
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 23.1%;justify-content: center;">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/red_giant.jpg?raw=true" class="img-fluid"></p>
</div>
<div class="quarto-layout-cell" style="flex-basis: 76.9%;justify-content: flex-start;">
<p><a href="red-giant.html"><strong>লোহিত দানব তারার গল্প</strong></a></p>
</div>
</div>
</div>
<hr>


</section>

 ]]></description>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <category>গ্রহ</category>
  <category>উপগ্রহ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/ganymede.html</guid>
  <pubDate>Fri, 24 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/solar-system/ganymede-juno.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>শনি গ্রহের উপগ্রহ এখন কয়টি?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/saturn-moons.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>২০২৫ সালের মার্চ। এক লাফে শনি গ্রহের উপগ্রহ হয়ে গেল ২৭৪টি। নতুন করে পাওয়া যায় ১২৮টি ছোট উপগ্রহ। ফলে আগেই পেছনে পড়া বৃহস্পতি উপগ্রহের সংখ্যার দিক থেকে আরও পিছিয়ে পড়ে।</p>
<p>শনির উপগ্রহ আছে নানান আকারের। বুধ গ্রহের চেয়ে বড় উপগ্রহ যেমন আছে, তেমনি আছে আবার খেলার মাঠের সমান চাঁদও। দানবীয় উপগ্রহ টাইটান গ্রহটির সবচেয়ে বড় উপগ্রহ। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ অবশ্য বৃহস্পতির চারপাশে ঘোরা গ্যানিমিড। টাইটান আমাদের চাঁদের চেয়ে ৪৮ ভাগ বেশি চওড়া। ভর বেশি ৮০ ভাগ।</p>
<p>এ লেখার সময় পর্যন্ত শনির উপগ্রহ পাওয়া গেছে ২৯২টি। ওদিকে গ্রহরাজ বৃহস্পতির চারপাশে বর্তমানে ঘোরে ১১৫টি উপগ্রহ।</p>
<p>শনির উপগ্রহ টাইটানের নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডলের সাথে পৃথিবীর মিল আছে। ভূমিরূপে আছে নদীর জাল ও হাইড্রোকার্বনের হ্রদ। ১৬৫৫ সালে ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্স উপগ্রহটি আবিষ্কার করেন। একে একে আরও উপগ্রহ পাওয়া যেতে থাকে। বিভিন্ন মহাকাশ অভিযান কাজটি আরেক ধাপ এগিয়ে নেয়৷ ১৯৮০-এর দশকে ভয়েজার প্রোগ্রাম আবিষ্কার করে অ্যাটলাস, প্রোমিথিউস ও প্যান্ডোরা। ক্যাসিনি অভিযানে পাওয়া যায় আরও কিছু নতুন চাঁদ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/saturn-moons.png" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>শনি ও শনির উপগ্রহ টাইটান (সবচেয়ে বড় উপগ্রহটি)</figcaption>
</figure>
</div>
<p>শনির চাঁদগুলোর মধ্যে ২৪টি নিয়মিত উপগ্রহ। এদের কক্ষপথ স্থিতিশীল। অবস্থান গ্রহের কাছাকাছি। বাকি ২৬৮টি অনেক দূরে অবস্থান করছে। চওড়া দুই থেকে ২১৩ কিলোমিটার।</p>
<p>এত বেশি উপগ্রহ থাকার একটি বড় কারণ শনির সাইজ ও ভর। তাছাড়া পৃথিবীসহ ভেতরের গ্রহগুলো সূর্যের অনেক কাছে। ফলে এসব অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বা ভগ্নবস্তুর সংখ্যা কম। সৌরজগতের বাইরের অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে থাকা অনেক বস্তু শনির মহাকর্ষীয় বাঁধনে আটকে যায়৷ এ কারণেই আসলে বৃহস্পতির চেয়েও শনির উপগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে। অবশ্য আকারে ছোট হওয়ায় এদেরকে শনাক্ত করাও কঠিন।</p>
<p>শনির সাথে বৃহস্পতির উপগ্রহযুদ্ধ অনেকদিনের। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথম শনি এগিয়ে যায়। সেসময় শনির ৮২টির বিপরীতে বৃহস্পতির ছিল ৭৯টি উপগ্রহ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন ১২টিসহ বৃহস্পতির উপগ্রহ হয় ৯৫টি। ফলে বৃহস্পতি ছাড়িয়ে যায় শনিকে। একই বছরের মে মাসে শনি আবারও এগিয়ে যায়। ৬২টি নতুন উপগ্রহ নিয়ে সংখ্যা হয় ১৪৫। এরপর ২০২৫ সালে তো কফিনে শেষ পেরেক। ১২৮টি নতুন উপগ্রহ নিয়ে শনি তৈরি করে একক আধিপত্য। বর্তমানে শনি ও বৃহস্পতির উপগ্রহসংখ্যা যথাক্রমে ২৯২ ও ১১৫টি।</p>
<p>সূত্র</p>
<ul>
<li>https://science.nasa.gov/saturn/moons/</li>
<li>https://ssd.jpl.nasa.gov/sats/discovery.html</li>
<li>https://physics.uiowa.edu/news/2025/03/space-scientists-discover-128-new-moons-orbiting-saturn</li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>উপগ্রহ</category>
  <category>গ্রহ</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/saturn-moons.html</guid>
  <pubDate>Wed, 22 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/solar-system/saturn.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>সৌরজগতের ধূমকেতুর দুই উৎস কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউড</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/kuiper-oort.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>সৌরজগতের ধূমকেতুর দুই প্রধান উৎস কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউড। কাইপের বেল্টের বিস্তৃতি সূর্য থেকে ৩০ থেকে ৫০ এইউ পর্যন্ত। এক এইউ পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দুরত্বের সমান। যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইলের সমান। উর্ট ক্লাউড অবশ্য কাইপার বেল্টের তুলনায় অনেক দূরে আছে। এর বিস্তৃতি সূর্যের ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ এইউ পর্যন্ত।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/kuiper-belt-oort-cloud.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউডের তুলনা</figcaption>
</figure>
</div>
<p>দুটি অঞ্চলই শীতল। কারণ অবশ্যই সূর্য থেকে দূরত্বের বিশালতা। কাইপার বেল্টের আকৃতি ডোনাটের মতো। নেপচুন গ্রহের ঠিক বাইরে পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। বামন গ্রহ প্লুটো, হাউমেয়া ও এরিসের অবস্থান এর ভেতরেই। স্বল্প-মেয়াদী ধূমকেতুগুলোও এখান থেকে আসে। এ ধূমকেতুগুলোর পর্যায়কাল ২০০ বছরের কম। সৌরজগৎ সৃষ্টির পর থেকে যাওয়া পদার্থের অবশিষ্টাংশ দিয়ে তৈরি এ বেল্টখানা।</p>
<p>এর আকৃতি অনেকটা মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে থাকা গ্রহাণু বেষ্টনীর মতো। তবে সে তুলনায় আকারে অনেক বড়। সৌরজগতের বেশিরভাগ বামন গ্রহের অবস্থান এখানেই। ১৯৫১ সালে ডাচ জ্যোতির্বিদ গেরিট কাইপার এমন একটি জিনিসের অনুমান করেন। যদিও আগে-পরে অনেকেই তা ধারণা করেছিলেন।</p>
<p>অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী ধূমকেতুর জন্মস্থান উর্ট ক্লাউড। কাইপার বেল্টের তুলনায় অনেক বেশি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এটি। আকৃতি গোলকীয়। সৌরজগতের শেষ সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে এ হিমশীতল বস্তুর মেঘটি। ১৯৫০ সালে জ্যোতির্বিদ জ্যান উর্ট ধূমকেতুর উৎস হিসেবে এমন একটি জায়গার কথা প্রস্তাব করেন।</p>
<p>এ জায়গটা কত বিস্তৃত তা বুঝতে একটু আলোর ভ্রমণ নিয়ে ভাবুন। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে মাত্র ৮ মিনিটের মতো সময় লাগে। পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের মহাকাশযান ভয়েজার ১। সেখানে পৌঁছতে সূর্যের আলোর লাগে একদিনের কম। অথচ উর্ট মেঘের ভেতরে ঢুকতেই সূর্যের আলোর লাগে আরও ১০ থেকে ২৮ দিন। আর মেঘটির এলাকা থেকে পুরোপুরি বের হতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে।</p>
<p>সবচেয়ে বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর উৎপত্তি উর্ট ক্লাউডে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়াও আছে লক্ষ-কোটি হিমেল পাহাড়ের আকারের ধূমকেতু। জমে বরফ হয়ে থাকা পানি, অ্যামোনিয়া ও মিথেন গ্যাস আছে এখানে। জিনিসটার অস্তিত্ব এখনও পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত নয়। তবে ধূমকেতুর উৎস হিসেবে জায়গাটি অনুমিত। এ অঞ্চলটিই সূর্যের সাথে আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থানের সীমানা হিসেবেও কাজ করে।</p>
<p>সূত্র</p>
<ul>
<li>https://science.nasa.gov/solar-system/oort-cloud/facts/</li>
<li>https://www.esa.int/ESA_Multimedia/Images/2014/12/Kuiper_Belt_and_Oort_Cloud_in_context</li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <category>সূর্য</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/kuiper-oort.html</guid>
  <pubDate>Tue, 21 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/solar-system/kuiper-belt-oort-cloud.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>আর্টিমিস ২ পৃথিবী ছেড়ে যায়নি!</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/artemis-did-not-leave.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>লেখাটি নিয়ে তৈরি ভিডিওটা দেখতে পারেন।</p>
<div class="quarto-video ratio ratio-16x9"><iframe data-external="1" src="https://www.youtube.com/embed/DLrXv0DjOV8" title="" frameborder="0" allow="accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture" allowfullscreen=""></iframe></div>
<p>পৃথিবী থেকে চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশ্য রওনা দিলেন। ৯ দিন পর ফিরে এলেন নিজ গ্রহে। কিন্তু পৃথিবী তো ঘুরছে সূর্যের চারপাশে। তার মানে ৯ দিন পর তো এটি আর আগের জায়গায় নেই। তাহলে আর্টিমিস কীভাবে ফিরে এল? ফিরে ঠিক কোথায় এল? পৃথিবীর নতুন অবস্থানে নিজেকে কীভাবে নিয়ে গেল?</p>
<p>যানটি কিন্তু পৃথিবীর নতুন অবস্থানেই ফিরে এসেছে। লুপের মতো করে চাঁদকে ঘুরে এসে নোঙর ফেলেছে পৃথিবীর বুকে।</p>
<p>পৃথিবী সূর্যের চারদিকে চলছে সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে। ঘণ্টায় ১ লাখ কিলোমিটারের বেশি। তারমানে আর্টিমিস ২ পৃথিবীতে আসতে আসতে পৃথিবী আগের জায়গা থেকে দূরে সরেছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার কিলোমিটার। অথচ পুরো ভ্রমণপথে যানটি নিজে চলেছে মাত্র প্রায় ১১ লাখ ২৭ হাজার কিলোমিটার পথ। তাহলে পৃথিবীকে ধরার জন্য বাড়তি দূরত্বটা কীভাবে পার হলো?</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/solar-system/sun-earth-moon.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ও চাঁদের প্রদক্ষিণ</figcaption>
</figure>
</div>
<p>সত্যি বলতে, আর্টিমিস ২ কখনোই পৃথিবীকে ছেড়ে যায়নি। আরও ভাল করে বললে, পৃথিবীর গতি থেকে আলাদা হয়নি। কারণ এটি ছিল পৃথিবীর মহাকর্ষ ক্ষেত্রের মধ্যেই। যেমনিভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা চাঁদ নিজেও পৃথিবীর মহাকর্ষের খোলসে বন্দি। বিমান যেভাবে নিজ গতির সাথে সাথে পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে ঘুরতে থাকে আকাশেও। আমরাও পৃথিবীর সাথে সাথে ঘুরি বলে বাড়তি সে গতি টের পাই না।</p>
<p>ফলে পৃথিবীকে ছেড়ে যাওয়ার সময় যানটির গতি আসলে শূন্য ছিল না। পৃথিবীর নিজস্ব গতি এর মধ্য ছিলই। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে যাওয়ার পরেও এটি সে গতিতে চলছিলই। চাঁদের দিকে যাওয়ার জন্য বাড়তি বেগ জ্বালানির সাহায্যে তৈরি করেছিল। কিন্তু পৃথিবীর সাথে সাথে চলার সেই অন্তর্নিহিত গতি অব্যাহত ছিল। নিউটনের গতির সূত্র বলছে, গতি অব্যাহত রাখার জন্য বাড়তি কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। গতি থামানোর জন্য বা পরিবর্তন করার জন্য বল প্রয়োজন। ফলে আর্টিমিসের পৃথিবী থেকে পাওয়া গতি অবিরত ছিল।</p>
<p>চাঁদ আগে থেকেই পৃথিবীর সাথে সাথে চলছে। ঘুরছে সূর্যের চারদিকে। বাড়তি গতি হিসেবে ঘুরছে পৃথিবীর চারপাশেও। ফলে চাঁদে যাওয়ার জন্য নভোচারী চাঁদকে তাড়া করে বেড়ায় না। পৃথিবী ও চাঁদের গতি অন্য গ্রহ-উপগ্রহদের ন্যায় অনুমানযোগ্য পথ ধরে চলে। কখন কোথায় থাকবে তা আগে থেকেই জানা।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/mission/artemis-ii-trajectory.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>পৃথিবী থেকে যে পথে চাঁদ ঘুরে এসেছে আর্টিমিস ২ যান</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তাই চাঁদে যাওয়ার জন্য চাঁদকে তাড়া না করে একটি ভবিষ্যৎ গন্তব্য ঠিক করা হয়। যান সে বিন্দুতে যেতে যেতে চাঁদও সেখানে গিয়ে হাজির হয়। হয়ে যায় দেখা। এভাবে বক্র পথেই চলে যানের ভ্রমণরেখা। চাঁদকে ঘুরে এসে যান আবার পৃথিবীমুখী হয়। আর্টিমিস ২-কে পৃথিবীর উদ্দেশ্য নতুন করে যাত্রা করতে হয়নি। এটি পৃথিবীর গতির তালে তালেই চলছিল। যানটি পৃথিবী ত্যাগ করল, চাঁদে গেল, আবার পৃথিবীতে ফিরে এল। এই পুরো সময়ে সবকিছুই ছিল পৃথিবীর সাথে সাথেই।</p>



 ]]></description>
  <category>মহাকাশযান</category>
  <category>চাঁদ</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/artemis-did-not-leave.html</guid>
  <pubDate>Tue, 14 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/mission/artemis-ii-trajectory.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>বিষম তারার গল্প</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/variable-star.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>তারা মানেই উজ্জ্বল। এমনকি মৃত তারাও জ্বলে বহুদিন। কেউ বেশি উজ্জ্বল। কেউ কম। কেউ আবার একইসাথে কম ও বেশি। ভুল বললাম। একইসাথে না। সময়ের সাথে সাথে ওঠানামা করে উজ্জ্বলতা। এরাই ভ্যারিয়েবল বা বিষম তারা।</p>
<p>সৌরজগতের নক্ষত্র সূর্য। সূর্যেরও কিন্তু উজ্জ্বলতার পরিবর্তন হয়। তবে সূর্যকে বিষম তারা বলে না। ১১ বছরের চক্রে সূর্যের উজ্জ্বলতা ১% পরিবর্তন হয়। এটুকু পরিবর্তনের জন্য তারাকে বিষম বলে না। এমনিতে এদের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। নোভা বা সুপারনোভা নক্ষত্র হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থায়িত্ব হয় মাত্র কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। আর বিষম তারা বারবার উজ্জ্বল-অনুজ্জ্বল চক্রে চলতে থাকে।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/star/betelgeuse.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>বিটলজুস যেকোনো সময় সুপারনোভা হয়ে যাবে।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>বিষম তারার খুব ভাল একটি উদাহরণ লোহিত অতিদানব তারা বিটলজুস। বাংলা নাম আর্দ্রা। কালপুরুষ বা আদমসুরত মণ্ডলের দ্বিতীয় উজ্জ্বল তারা। রাতের আকাশের আপাত উজ্জ্বলতায় ক্রমিক নং ১০। ২০১৯ সালে এটি দ্রুত অনুজ্জ্বল হতে থাকে। ২০২০ নাগাদ আগের অর্ধেক উজ্জ্বল হয়ে যায়। এ আকস্মিক পরিবর্তন অনেকসময় সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হওয়ার লক্ষ্মণ প্রকাশ করে। তবে বিটলজুস বিস্ফোরিত হয়নি। পরে আবার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় ফিরে আসে। এর আপাত উজ্জ্বলতার মান ০ থেকে ১.৬ হতে পারে। বেশি উজ্জ্বল তারার ক্ষেত্রে এই মানটি হয় ছোট।</p>
<p>বিষম তারার আছে আবার নানান রকমফের। অন্তর্নিহিত বিষম তারার উজ্জ্বলতা পরিবর্তন হয় নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কারণে। এদের সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হলো সিফিড বিষম তারা (Cepheid)। এদের আরেকটি পরিচয়, এরা স্পন্দনশীল তারা। এদের অভ্যন্তরে সংঘটিত বিবর্তন প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাসার্ধ পালাক্রমে বড়-ছোট হয়। আর তাতেই উজ্জ্বলতার তারতম্য ঘটে। সিফিড নামটা এ ধরনের আবিষ্কৃত প্রথম তারা ডেল্টা সিফিয়াই থেকে। ১৮৭৪ সালের এটি আবিষ্কৃত হয়।</p>
<p>আরেক ধরনের বিষম তারার উদ্ভব ঘটে নোভা নক্ষত্র থেকে। ল্যাটিন শব্দ নোভা মানে নতুন তারা। এক্ষেত্রে কোনো শ্বেত বামন তারা পাশ্ববর্তী কোনো তারা থেকে জ্বালানি নিয়ে নতুন করে ফিউশন শুরু করে। উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তারাটা। জ্বালানি ফুরোলে আবার অনুজ্জ্বল। অনেক বেশি সংগ্রহ করতে পারলে শ্বেত বামনরা সুপারনোভা বিস্ফোরণও ঘটাতে পারে। এ ধরনের সুপারনোভকে বলে টাইপ ওয়ানএ সুপারনোভা (Type Ia supernov)। অন্তর্নিহিত বিষম তারাদের মধ্যেই আবার বহু রকমফের আছে। এই যেমন আরআর লাইরি, মাইরা বা দীর্ঘ-পর্যায়কালের বিষম তারা। এদের সবারই উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন ঘটে অভ্যন্তরীণ কারণে।</p>
<p>বাহ্যিক বিষম তারার উজ্জ্বলতার পরিবর্তন হয় বহিস্থ কোনো কারণে। এরাও আছে নানান রকম। তবে এদের সবাইকে মোটামুটি দুইভাগে ভাগ করা যায়। গ্রহণশীল জোড়াতারা ও আবর্তনশীল বিষম তারা। গ্রহণশীল বিষম তারারা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। উজ্জ্বলতার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার সাথে মিল আছে সূর্যগ্রহণের। জোড়াতারারা একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘোরে। ফলে পৃথিবী থেকে দেখতে কখনো কখনো একটি তারা চলে আসে আরেক তারার সামনে। ফলে পেছনের তারার উজ্জ্বলতা ঢাকা পড়ে যায়। এ ধরনের বিখ্যাত এক তারার নাম অ্যালগল। অবস্থান পারসিয়াস তারামণ্ডলে। ৩২০০ বছর আগে মিশরীয়রা তারাটার উজ্জ্বলতার পরিবর্তন লক্ষ করেছিল। এ নামে আমরা আমরা যে তারা দেখি, সেটি আসলে তিন তারার এক জগত। উজ্জ্বলতার মান সর্বোচ্চ ২.১ থেকে কমে ৩.৪ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে (মান বেশি মানে কম উজ্জ্বল)।</p>
<p>নাম থেকেই বোঝা যায়, আবর্তনশীল বিষম তারার উজ্জ্বলতা পাল্টে ঘূর্ণনের কারণে। এদের মধ্যেও আছে নানা ধরন। কারও কারও পৃষ্ঠে আছে বিশাল আকারের সৌরদাগ। যারা নক্ষত্র থেকে আসা আলোকে বাধাগ্রস্ত করে। আবার বিষম আকৃতির কারণে অনুজ্জ্বল অংশ দৃষ্টির সামনে এলেও উজ্জ্বলতা কম দেখাতে পারে। কন্যামণ্ডলের তারা চিত্রা এমন এক তারা। উজ্জ্বলতার মান ০.৯৭ থেকে ১.০৪ হতে পারে।</p>
<p>জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় বিষম তারা খুব ভাল ভূমিকা রাখে। নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ জানতে এরা সহায়তা করে। চাইলে আপনিও বিষম তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। হয়ে যেতে পারেন তারা খোঁজাখুঁজির অংশ । অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অন্য ভ্যারিয়েবল সটার অবজারভারস (এএভিএসও) এক্ষেত্রে আপনার বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। www.aavso.org ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে জানা যাবে বিস্তারিত। বিজ্ঞান চর্চায় যে সবসময় দামী দামী যন্ত্র লাগে না তারও এক প্রমাণ বিষম তারা। এসব তারা নিয়ে গবেষণা করতে শুধুই প্রয়োজন খালি চোখ আর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। তো, আজ থেকেই হয়ে ওঠুন জ্যোতির্বিদ!</p>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>কসমোলজি</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/variable-star.html</guid>
  <pubDate>Thu, 09 Oct 2025 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/star/variable.webp" medium="image" type="image/webp"/>
</item>
<item>
  <title>নক্ষত্রের দূরত্ব বের করা হয় কীভাবে?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/how-is-star-distance-measured.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>মহাকাশের বস্তুদের দূরত্ব নির্ণয় জ্যোতির্বিদ্যার অন্যতম বড় একটি সমস্যা। আকাশের দিকে খালি চোখে তাকিয়েই তো আর তারাদের দূরত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। এ কারণেই প্রাচীন জ্যোতির্বিদরা ভাবতেন, আকাশের সবগুলো তারা পৃথিবী থেকে একই পরিমাণ দূরত্বে একটি গোলকীয় পৃষ্ঠে বসানো আছে।</p>
<p>নক্ষত্রের দূরত্বের মাপার ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে টেলিস্কোপ- তাও নিকটবর্তী নক্ষত্রদের দূরত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে। পদ্ধতিটির নাম প্যারালাক্স বা লম্বন (Parallax)। নক্ষত্রের দূরত্বের একক পারসেক এসেছে এ শব্দটা থেকেই। এক পারসেক = ৩.২৬ আলোকবর্ষ।</p>
<p>প্যারালাক্স বুঝতে হলে হাতের সামনে একটি আঙ্গুল ধরুন। এক চোখ বন্ধ করে এর দিকে তাকান। এবার আরেক চোখ খুলে এই চোখ বন্ধ করে আঙ্গুলের দিকে তাকান। কী ঘটছে? ব্যাকগ্রাউন্ডের সাপেক্ষে আঙ্গুলের অবস্থান বদলে যাচ্ছে। অবস্থানের এই বিচ্যুতির কৌণিক হিসাবকেই প্যারালাক্স বলে। আঙ্গুলের বদলে আরো দূরের কোন বস্তুর ক্ষেত্রে একই পরীক্ষা চালালে দেখা যাবে যে দুই চোখের দেখা অবস্থানের পার্থক্য তথা প্যারালাক্সের মান কমে যাচ্ছে।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/star/parallax-visual.png" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>প্যারালাক্স। পর্যবেক্ষণের স্থান পাল্টালে পাল্টে যায় বস্তুর অবস্থান।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>এখন, নক্ষত্রদের দূরত্ব নির্ণয়ের জন্যে আমরা এই প্যারালাক্স পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারি। কিন্তু উপরে যেমন বললাম, বস্তুর দূরত্ব বেশি হলে কৌণিক বিচ্যুতিও কম হবে। নক্ষত্রের দূরত্ব বের করার জন্যে পৃথিবীর দুইটি আলাদা জায়গা থেকে একে দেখে নিয়ে ত্রিকোণমিতি কাজে লাগিয়ে দূরত্ব বের করা সম্ভব। এক্ষেত্রে পৃথিবীর আলাদা জায়গা দুটি দুই চোখের মত কাজ করবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, নক্ষত্ররা পৃথিবী থেকে এত বেশি দূরে যে এদের প্যারালাক্সের মান হয় খুবই সামান্য। ফলে খুব ভাল মান পাওয়া যায় না।</p>
<p>এ সমস্যার সমাধানের জন্যেও পথ বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী বছরে এক বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে সূর্যের চারদিকের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী ৬ মাস পর পর বিপরীত বিন্দুতে পৌঁছায়। এই দুই বিপরীত অবস্থান থেকে অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী নক্ষত্রের প্যারালাক্সের ভালো মান পাওয়া যায়।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/star/parallax.png" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>প্যারালাক্স কোণ</figcaption>
</figure>
</div>
<p>যেমন চিত্রে দেখা যাচ্ছে জুন ও ডিসেম্বর মাসে পৃথিবী কক্ষপথের ঠিক বিপরীত প্রান্তদ্বয়ে থাকে। এই দুই বিন্দুতে কোন নক্ষত্র যে কোণ তৈরি করবে তার অর্ধেকই হল প্যারালাক্স (চিত্রে কোন p)।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://www.bishwo.com/img/star/parsec.png" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>প্যারালাক্স পদ্ধতিতে নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয়</figcaption>
</figure>
</div>
<p>এই পদ্ধতিটিও শুধু কাজ করবে পৃথিবী থেকে অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী তারকাদের ক্ষেত্রে। আরো দূরের তারকা বা অন্য কোন বস্তুদের ক্ষেত্রে প্যারালাক্সের মান অনেক কমে যাবে বিধায় ভাল হিসাব পাওয়া যাবে না।</p>
<p>পারালাক্স পদ্ধতি দিয়ে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ আলোকবর্ষ দূরের তারার দূরত্ব মাপা যায়। আরও দূরের তারার দূরত্ব মাপার সরাসরি কোনো উপায় নেই। তবে নক্ষত্রের রঙ ও উজ্জ্বলতার সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে দূরত্ব জানা যায়। রং থেকে জানা যায় প্রকৃত উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি। নক্ষত্রের আলো পৃথিবীতে আসতে আসতে সে উজ্জ্বলতা নিয়ম মেনে কমে। সে নিয়মটা হলো বিপরীত বর্গীয় সূত্র। আর এটা থেকেই জানা যায় নক্ষত্রের দূরত্ব। ছায়াপথের দূরত্ব মাপতেও প্রায় একই ধরনের ধারণা ব্যবহার করা হয়। সৌরজগতের গ্রহ বা সূর্য তো আরও অনেক কাছে। ফলে প্যারালাক্স দিয়েই এদের দূরত্ব বেশ ভালোভাবেই পাওয়া যায়।</p>
<ul>
<li><a href="http://www.astronomy.ohio-state.edu/~pogge/Ast162/Unit1/Images/parallax.png">অ্যাস্ট্রোনমি ডট কম</a></li>
<li><a href="http://curious.astro.cornell.edu/the-universe/79-stars-and-star-clusters/distances/359-how-can-i-measure-the-distance-of-a-star-beginner">কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়</a></li>
<li><a href="https://science.howstuffworks.com/question224.htm">হাউ স্টাফ ওয়ার্কস</a></li>
<li><a href="https://www.sciencefocus.com/space/how-do-we-calculate-distances-to-other-galaxies">সায়েন্স ফোকাস</a></li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>দূরত্ব</category>
  <category>মহাবিশ্ব</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/how-is-star-distance-measured.html</guid>
  <pubDate>Wed, 11 Oct 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/star/stars.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>নোভা নক্ষত্রের গল্প</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/nova-star.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>নোভা। ল্যাটিন এই কথাটার অর্থ নতুন তারা। শুনলে মনে হবে নতুন জন্ম নেওয়া নক্ষত্রের নাম নোভা। অথচ আসলে তা নয়। ভুল নাম থেকে যে জ্যোতির্বিজ্ঞানও মুক্ত নয়, তার আরেক উদাহরণ এই নোভা। ব্ল্যাকহোলের কথাই ধরুন। জিনিসটা না ব্ল্যাক না হোল। কালোও না। নেই কোনো গর্তও। তাও নাম ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর৷</p>
<p>নোভা নক্ষত্রের ছবি</p>
<p>এ তো গেল অর্থ। সংজ্ঞায়ও আছে গড়বড়৷ বলা হয় নোভা এমন নক্ষত্র যার উজ্জ্বলতা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়৷ তার মানে নোভা নক্ষত্র খুব অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷ বাস্তবে নোভার গল্পটা আরেকটু জটিল৷ অনেকগুলো ব্যাপার ঠিকঠাক কাজ করলে তবেই পাওয়া যায় নোভা৷</p>
<p>আধুনিক যন্ত্রপাতি আসার আগে দূর আকাশে কথা জানা ছিল জ্যোতির্বিদদের৷ তখন থেকেই নতুন তারাকে তাঁরা নোভা বলেন৷ মানে নতুন বা নবতারা৷ নামটা খানিক ভুল। এই তারাগুলো মোটেও নতুন নয়। ছিল সেখানে আগে থেকেই৷ হ্যাঁ, দেখার মতো যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল না এই যা।</p>
<p>নোভা পাওয়ার জন্য একটা তারা হলে হবে না। লাগবে দুটি তারা। হতে হবে সূর্যের মতো। সূর্যের মতো থাকবে প্রধান ক্রম দশায়। মানে হাইড্রোজেন পুড়িয়ে হিলিয়াম বানাবে৷ এ দুই তারা হবে বাইনারি বা জোড়াতারা। একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরবে। বলা ভাল মিলিত ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ঘুরবে।</p>
<p>কয়েকশো কোটি বছর পরের কথা৷ একটি নক্ষত্রের কোর বা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হাইড্রোজেন শেষ হয়ে যাবে৷ বাইরের অংশ বড় হয়ে নক্ষত্রটা হবে লোহিত দানব৷ পরে ভেতরের অংশ মহাকর্ষের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ছোট হয়ে হবে শ্বেত বামন। কিছু সময় পরে আরেকটা নক্ষত্রও লোহিত দানব হবে৷</p>
<p>এবার আমাদের দুটি তারার একটি লোহিত দানব। আরেকটি শ্বেত বামন৷ ঘুরছে একে অপরকে ঘিরে৷ শ্বেত বামন তারাটা দেখবে আয়তনে বড় পাশের তারাটার বাইরের দিকে এখনও হাইড্রোজেন আছে৷ এটি মহাকর্ষ দিয়ে ছোঁ মেরে লোহিত দানব থেকে জ্বালানি ও পদার্থ ছিনতাই করবে৷ বিশেষ করে হাইড্রোজেন৷ লোহিত দানবের হাইড্রোজেন এবার জমা হতে থাকবে শ্বেত বামনের চারপাশে৷ আমদানিকৃত পদার্থে ঢেকে যাবে বামন নক্ষত্রটা৷</p>
<p>পদার্থ জমা হতে হতে ও বেড়ে সঙ্কুচিত হয়ে তাপমাত্রা বাড়বে৷ তাপমাত্রা প্রায় ২০ হাজার কেলভিন হলে এখানেও শুরু হবে ফিউশন। প্রধান ক্রম অবস্থায় নক্ষত্রের কোরে যেমন হত। হাইড্রোজেনরা মিলিত হয়ে হিলিয়াম হবে৷ বাইরের দিকের এ পদার্থ জ্বলে জ্বলে নিজেকেই বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়৷ এ সময়ই তৈরি হয় উজ্জ্বল আলো৷এরই নাম নোভা। এ ঘটনা ঘটতে মাত্র কয়েক মাস সময় লাগে৷</p>
<p>সঙ্গী তারা থেকে জ্বালানি নিচ্ছে নোভা তারা</p>
<p>আগে যে তারাকে দেখতে টেলিস্কোপ লাগত, এখন তাকে দেখা যায় খালি চোখেই৷ কিছু কিছু তারাটা কাজটা করে নিয়মিত৷ একশো বছরের মধ্যে কয়েকবার উজ্জ্বল ও মলিন হয়৷ অন্যদের আরও বেশি সময় লাগে। তবে আধুনিক যন্ত্র আসার পরে একবারের বেশি দেখা এখনও সম্ভব হয়নি৷ জ্যোতির্বিদদের অনুমান বলছে, আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে বছরে প্রায় ৪০ নোভা হয়৷ দেখা যায় অন্য ছায়াপথেও৷</p>
<p>১৫৭২ সালে টাইকো ব্রাহে নোভা শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন৷ঐ বছর তিনি আসলে টেলিস্কোপে দেখেছিলেন একটা সুপারনোভা৷ এখন যার নাম এসএন ১৫৭২৷ এসএন মানে সুপারনোভা৷ এটা দেখা গিয়েছিল উত্তর আকাশের ক্যাসিওপিয়া মণ্ডলে৷ সূর্যের প্রায় দশ গুণ ভরের তারকারা জীবনের শেষ ভাগে সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হতে পারে। জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়ে নক্ষত্র ঠাণ্ডা হয়। নক্ষত্রের বহির্মুখী চাপ কমে। এতদিন যে চাপ মহাকর্ষকে ধরে রেখেছিল। চাপ নেই বলে এবার মহাকর্ষ জয়ী হয়। নক্ষত্র যায় গুটিয়ে। পৃথিবীর চেয়ে লক্ষ লক্ষ গুণ বড় ভারী জিনিসের আকার হয়ে যায় পৃথিবীর চেয়ে ছোট। কাজটা হতে সময় লাগে মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মতো। এই দ্রুত ঘটনাই একটি শক ওয়েভ তৈরি করে। বিস্ফোরিত হয় নক্ষত্রের বাইরের অঞ্চল। এ ধরনের বিস্ফোরণের নাম টাইপ টু সুপারনোভা।</p>
<p>টাইকো ব্রাহে ১৫৭২ সালে এমন বিস্ফোরণ দেখে ভাবলেন এ মনে হয় এক নতুন তারা। নাম দিলেন নোভা স্টেলা। বাংলায় যার অর্থ নবতারা। নামটা জ্যোতির্বিদদের মনে ধরে। আকাশে উজ্জ্বল কিছু দেখা গেলেই অনেকে নাম দিচ্ছিলেন নোভা।</p>
<p>নোভা বিস্ফোরণের শ্বেত বামনে জড় হওয়া মাত্র পাঁচ ভাগ পদার্থ ফিউশনে খরচ হয়। কিছু নিক্ষিপ্ত হয় মহাশূন্যে। ফিউশনের উপজাত হিসেবে কিছু আবার জমা হয় পৃষ্ঠে। কয়েক লক্ষ বছরে শ্বেত বামন প্রচুর পদার্থ জমা করে ফেলে। শুরু হয় কার্বন ফিউশন। শ্বেত বামনটার ভর সূর্যের ১.৪৪ গুণ হলে নক্ষত্রটা ঢেকে যায় ফিউশনের চাদরে। জমা হয় প্রচুর শক্তি। সেকেন্ডের ব্যবধানে ঘটে যায় বিস্ফোরণ। একে তখন আর নোভা বলে না। বলে সুপারনোভা। বিশেষ নাম টাইপ ওয়ান-এ সুপারনোভা।</p>
<p>তাহলে নোভা হলো মৃত তারার সঙ্গী তারা থেকে চুরি করা পদার্থ নিয়ে ফিউশন ঘটানোর ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণ। আর প্রচুর ভর জমা হয়ে শেষের বড় বিস্ফোরণটার নাম টাইপ ওয়ান-এ সুপারনোভা।</p>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>দূরত্ব</category>
  <category>মহাবিশ্ব</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/nova-star.html</guid>
  <pubDate>Wed, 11 Oct 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/star/stars.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>লোহিত দানব তারার গল্প</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/red-giant.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>টকটকে লাল লোহিত দানব তারা৷ তবে জন্ম নিয়েই সাথে সাথে লোহিত দানব হয়ে যায় না৷ জন্মের সময় বিশাল ভরের তারা নিজের ভরে চুপসে যেতে চায়৷ শক্তিশালী মহাকর্ষ তারার হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের গ্যাসীয় মেঘকে গুটিয়ে ফেলতে থাকে৷ এ থেকেই জোড়া লাগতে শুরু করে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস। শুরু হয় ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়াম তৈরির প্রক্রিয়া৷ এভাবেই তৈরি হয় আলো ও তাপ৷ এ বিক্রিয়া তৈরি করে বহির্মুখী চাপ৷ আর তাতেই মহাকর্ষ ও ফিউশন ভাপের টানাটানিতে একটি তারা ভারসাম্যে থাকে৷ তারার এ দশাকে বলে প্রধান ক্রম।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/red_giant.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানব তারা</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে এটা তো আর চিরদিন চলা সম্ভব নয়। প্রায় ৭৫ ভাগ হাইড্রোজেন নিয়ে তারার জন্ম। একটা সময় কোর বা কেন্দ্রভাগের হাইড্রোজেন শেষ হয়ে যায়৷ তারা যত ভারী, তত দ্রুত ফুরোয় তার জ্বালানি৷ কারণ মহাকর্ষ শক্তিশালী হওয়ায় ফিউশন চলে দ্রুত গতিতে। ফলে ভর বেশি হলেও ভারী তারার জ্বালানি আগে শেষ হয়। সবচেয়ে ভারী তারারা তো সুপারনোভা হওয়ার আগে মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছর জ্বলে। যেখানে সূর্যের মতো গড়পড়তা তারাদের ফিউশন চলে প্রায় এক হাজার কোটি বছর ধরে। জ্বালানি শেষ হলেই তারার ভারসাম্যও শেষ৷ কোর বা কেন্দ্রভাগ আবার গুটোতে থাকে৷ তবে কোরের চারপাশের খোলসে থাকা প্লাজমা পদার্থ উত্তপ্ত হয়ে হয়ে নিজেই ফিউশন শুরু করে৷</p>
<p>খোলসের এ ফিউশনের ফলে তৈরি বাড়তি তাপ তারার বাইরের অংশকে নাটকীয়ভাবে প্রসারিত করে দেয়৷ তারার পৃষ্ঠ আগের চেয়ে কয়েকশো গুণ বড় হয়ে যায়৷ সূর্যও এসময় প্রায় ২০০ গুণ বড় হয়ে যাবে৷ তারার শক্তি এ সময় বড় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হয়ে পড়ে৷ ফলে তাপমাত্রা কমে আসে৷ তাতে তার রং বদলে সাদা বা হলুদ থেকে লাল হয়৷ তৈরি হয় রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানব৷ তাপমাত্রা নেমে আসে ৫ হাজার কেলভিনে৷ আগে যেখানে ছিল ৬ থেকে ৩০ হাজার কেলভিন৷ তবে সত্যি বলতে, রেড জায়ান্টরা আসলে দেখতে কমলা। লাল হতে হলে তাপমাত্রা হতে হবে আরও কম। চার হাজার কেলভিনের নিচে।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/star_evolution.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>নক্ষত্রের বিবর্তন</figcaption>
</figure>
</div>
<p>ব্যাপারটা রাতারাতি ঘটে যায় না। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে কোটি কোটি বছর৷ প্রধান ক্রম দশা শেষে সব তারা কিন্তু লোহিত দানব হবে না৷ জন্মের সময় ভর সূর্যের ৮০ ভাগ থেকে ৮ গুণ পর্যন্ত হলেই কেবল তারা লোহিত দানব হতে পারে৷ আরও বড় হলে তারা জ্বালানি ফুরিয়ে হয় রেড সুপারজায়ান্ট বা অতিদানব৷ পরে ঘটায় সুপারনোভা বিস্ফোরণ৷ রেড জায়ান্টরা সাধারণত বিস্ফোরণ ঘটায় না। তবে পাশে কোনো শ্বেত বামন তারা থাকলে সেটা লোহিত দানবের জ্বালানি চুরি করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে৷ এর নাম নোভা বিস্ফোরণ৷</p>
<p>তারা রেড জায়ান্ট দশায় থাকে প্রায় একশ বছর৷ সূর্যের কাছাকাছি ভরের তারাদের কোর হবে শ্বেত বামন৷ আর কেন্দ্রের তাপ ও চাপে বাইরের অংশ নিক্ষিপ্ত হয় মহাশূন্যে। এই নিক্ষিপ্ত অংশের নাম গ্রহ নীহারিকা (planetary nebula)। যদিও গ্রহের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ হাইড্রোজেন পরবর্তী হিলিয়াম ও আরও ভারী পদার্থের ফিউশনে তৈরি কার্বন ও অন্যান্য পদার্থ থাকে এ নীহারিকায়৷ এ নীহারিকা আশেপাশের পদার্থের সাথে একীভূত হতে পারে৷ হতে পারে নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির উপাদান। তবে বেশিদিন এরা টিকে থাকে না। কয়েক হাজার বছর থেকে শুরু করে এক লাখ বছরের কাছাকাছি পর্যন্ত চলতে পারে জীবন। তারপর মিলিয়ে যায় আন্তঃনাক্ষত্রিক জগতে।</p>
<p>আরও প্রায় পাঁচশো কোটি বছর সূর্য লোহিত দানব হবে। বর্তমান রাতের আকাশের পরিচিত অনেক তারাই বর্তমানে এ দশায় আছে৷ স্বাতী, ক্যাপেলা, অ্যালডেবারান, জ্যেষ্ঠা (antares) এদের মধ্যে অন্যতম। স্বাতী তো উত্তর গোলার্ধের রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা৷ সমগ্র রাতের আকাশে চতুর্থ উজ্জ্বল৷ ক্যাপেলা উজ্জ্বলতায় ষষ্ঠ৷ আর অ্যালডেবারান চতুর্দশ৷ আর অ্যান্টারিজ পনেরতম। এরা লোহিত দানব হয়েও রেড সুপাজায়ান্ট লোহিত অতিদানবদের চেয়েও পৃথিবীর আকাশে বেশি উজ্জ্বল। কারণ একটাই–দূরত্ব।</p>
<p>যেমন উজ্জ্বলতায় স্বাতী চতুর্থ আর বিটলজুস নবম। স্বাতী পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৬ আলোকবর্ষ দূরে৷ অভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি সূর্যের ১৭০ গুণ৷ ওদিকে লোহিত অতিদানব তারা বিটলজুসের দীপ্তি সূর্যের প্রায় এক লক্ষ গুণ (বিভিন্ন হিসাবে কম-বেশি আছে)। তবুও পৃথিবীর আকাশে বিটলজুস কম উজ্জ্বল। এর দূরত্ব যে ৫৪৮ আলোকবর্ষ!</p>
<p>সূত্র</p>
<ul>
<li>https://esahubble.org/wordbank/red-giant/</li>
<li>https://esahubble.org/wordbank/planetary-nebula/</li>
<li>https://socratic.org/questions/why-is-red-giant-red-in-color</li>
<li>https://earthsky.org/astronomy-essentials/what-are-red-giants-definition/</li>
<li>http://sunshine.chpc.utah.edu/Labs/StarLife/remnants.html#</li>
<li>https://www.cfa.harvard.edu/research/topic/planetary-nebulas#</li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>কসমোলজি</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/red-giant.html</guid>
  <pubDate>Mon, 09 Oct 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/red_giant.jpg?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>পৃথিবীর আকাশে চাঁদ ও সূর্য দেখতে সমান কেন?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/why-sun-moon-same-size.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>চাঁদ ও সূর্য। পৃথিবীর আকাশকে সুন্দর করে তোলার পেছনে যাদের জুড়ি মেলা ভার। আকারে দুই বস্তুতে ব্যাপক পার্থক্য। সূর্য চাঁদের তুলনায় বিশাল। তাও পৃথিবীর আকাশে দুটো বস্তুকে সমান দেখায়। কিন্তু কেন?</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/theory/sun-moon-size.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>পৃথিবী থেকে দূরত্ব ও আকার - এই দুই মানের ভারসাম্যে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর আকাশে সমান।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>সূর্য বিশাল এক বস্তু। ১৩ লক্ষ ৯০ হাজার কিলোমিটার চওড়া৷ মাইলের হিসাবে ৮ লক্ষ ৬৪ হাজার৷ দূরত্বও আবার বিশাল। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল৷</p>
<p>অপরদিকে চাঁদের ব্যাস ২১৫৯ মাইল বা ৩৪৭৫ কিলোমিটার৷ মানে চাঁদ সূর্যের চারশ ভাগের একভাগ মাত্র চওড়া৷ আর পৃথিবীর থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার বা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ মাইল।</p>
<p>এ হিসাবগুলোতে দারুণ মজার একটা ব্যাপার আছে৷ পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় সূর্যের দূরত্ব ৪০০ গুণ৷ আবার সূর্যের আকার চাঁদের ৪০০ গুণ। ফলে চাঁদের তুলনায় সূর্যের বিশালতা আমাদের চোখে হারিয়ে যায় দূরত্বের কারণে৷ ঠিক এভাবেই দূরের উজ্জ্বল নক্ষত্র কাছের অনুজ্জ্বল নক্ষত্রের আলোর কাছে হেরে যায়৷</p>
<p>চাঁদ ও সূর্য দুটোরই আকার পৃথিবীর আকাশে ০.৫ ডিগ্রি৷ তবে সবসময় আকার সমান থাকে না। পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার। চাঁদের পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথের নিকটতম অবস্থানের নাম অনুভূ। আর সবচেয়ে দূরের অবস্থানের নাম অপভূ৷ একইভাবে সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর কক্ষপথও উপবৃত্তাকার৷ কাছের ও দূরের অবস্থানের নামগুলো অনুসূর ও অপসূর৷ জানুয়ারি মাসে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে। জুলাই মাসে সবচেয়ে দূরে।</p>
<p>এসব কারণে সময় সময় চাঁদ ও সূর্যকে পৃথিবীর আকাশে বড় ও ছোট দেখায়৷ তবে চাঁদ পৃথিবীর বেশি কাছে বলেই আকারের তারতম্য বেশি ফুটে ওঠে৷ আমরা দেখি মাইক্রোমুন ও সুপারমুন৷ পৃথিবীর চারপাশের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে চাঁদ দূরে থাকা অবস্থার পূর্ণিমা বা অমাবশ্যাকে বলে মাইক্রোমুন। বিপরীতভাবে কাছের অবস্থানে হয় সুপারমুন৷ চাঁদকে অনেকটা বড় দেখা যায় এ সময়। চাঁদ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৪% বেশি বড় ও ৩০% উজ্জল হয়ে ওঠে এসময়।</p>
<p>আবার এই চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর আকাশে সমান বলেই আমরা নানানসময় দেখি সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ৷ সেটা হতে হলে তিন বস্তুকে অবশ্য একই রেখায় আসতে হয়। সাইজ মিলে গেলে বা চাঁদ বড় হলে দেখি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ৷ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ দূরে থাকলে দেখা যায় বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ৷ চাঁদের চারপাশ ঘিরে এ সময় দেখা যায় সূর্যের বৃত্তাকার আলোকরেখা৷</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/theory/types-of-solar-eclipses.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যগ্রহণ কেমন হবে তা নির্ভর করে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের ওপর।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে চাঁদ ক্রমেই পৃথিবী থেকে দূরে সরছে। ২৫০ কোটি বছর ধরেই চলছে এ প্রক্রিয়া। প্রতি বছর সরছে প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে৷ দূর অতীতে তাই সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর আকাশে সমান ছিল না। চাঁদ ছিল বড়৷ বর্তমানে আমরা ভাগ্যবান। এই সময়টায় দুটোই সমান। দূরে সরার কারণে ধীরে ধীরে চাঁদ আরও ছোট হবে৷</p>
<p>মঙ্গল গ্রহের দুই চাঁদ বা উপগ্রহ ডিমোস ও ফোবোস দুটোই সূর্যের চেয়ে অনেক ছোট৷ পৃথিবীর চেয়েও মঙ্গল থেকে সূর্য বেশি দূরে৷ মঙ্গলের আকাশে তাই এর চাঁদদের ছোট হওয়ার কারণ এর চাঁদদেরই ছোট সাইজ৷ অন্য গ্রহগুলার আকাশে সূর্যকে অনেক ছোট দেখায়। যেমন বৃহস্পতির আকাশে সূর্য পৃথিবীর আকাশের তুলনায় পাঁচগুণ ছোট। শনির আকাশে তো আরও ছোট। পৃথিবীর দশ ভাগের এক ভাগ। আরও দূরের গ্রহে ক্রমেই বিন্দুর মতো হয়ে যায়।</p>
<section id="demo-header" class="level2">
<h2 class="anchored" data-anchor-id="demo-header">Demo Header</h2>


</section>

 ]]></description>
  <category>সূর্য</category>
  <category>চাঁদ</category>
  <category>পৃথিবী</category>
  <category>আকাশ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/why-sun-moon-same-size.html</guid>
  <pubDate>Tue, 19 Sep 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/theory/sun-moon-size.png?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>সূর্য কত বড়?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/how-big-is-sun.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>সূর্য সৌরজগতের সবচেয়ে বড় বস্তু। যেমন ভারী, তেমনি তার বিশাল অবয়ব৷ সৌরজগতের মোট ভরের ৯৯.৮৬ ভাগ ভরই সূর্যের একার৷ আর আকার? ১০৯টা পৃথিবীকে পাশাপাশি বসালে সূর্যের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত যাওয়া যাবে৷ মানে ব্যাস পৃথিবীর ১০৯ গুণ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>১০৯টা পৃথিবীকে একটার পর একটা বসিয়ে দিলে সূর্যের সমান চওড়া হবে।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে ফুটবলের মতো প্রায় গোলাকার সূর্যের পেটের ভেতরে বসিয়ে দেওয়া যাবে ১৩ লক্ষ সূর্য৷ এটাই প্রচলিত কথা। সংখ্যাটায় একটু গোলমাল আছে অবশ্য। এ সংখ্যা পাওয়া গেছে সূর্যের আয়তনকে পৃথিবীর আয়তন দিয়ে ভাগ করে। সেটাকেই স্বাভাবিক মনে হয়। তবে এটা সঠিক হত যদি পৃথিবীকে গলিয়ে সূর্যের পেটে ভরে রাখা যেতে। কিন্তু পৃথিবী শক্ত ও কঠিন পদার্থে তৈরি। পৃথিবীকে সূর্যের ভেতরে বসাতে গেলে এখানে-সেখানে ফাঁকা জায়গায় থেকে যাবে। পুরো আয়তন ভর্তি করা যাবে না। ফলে, সবমিলিয়ে সূর্যের ভেতরে জায়গা পাবে নয় ৯ লাখ ৩২ হাজার পৃথিবী।</p>
<p>সূর্যের আকার প্রায় পুরোপুরি গোলাকার৷ মেরু ও বিষুব অঞ্চলের ব্যবধান মাত্র ১০ কিলোমিটার বা ৬.২ মাইল৷ গড় ব্যাসার্ধ ৪,৩২,৪৫০ মাইল (৬,৯৬,০০০ কিলোমিটার)৷ ব্যাস ৮,৬৪,৯৩৮ মাইল বা ১৩,৯২,০০০ কিলোমিটার৷ তবে সূর্য আকারে চাঁদ ও পৃথিবীর তুলনায় বিশাল হলেও পৃথিবীর আকাশে চাঁদ ও সূর্যকে সমান দেখায়। এর কারণ, সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বড়। আবার, পৃথিবী থেকে দূরত্বও ৪০০ গুণ। ফলে পৃথিবীর আকাশে এ দুই বস্তুকে সাধারণত সমান দেখা যায়। তবে সবসময় নয়।</p>
<p>ভরও দারুণ বিশাল। তিন লাখ ত্রিশ হাজার পৃথিবী একত্র করলে সূর্যের সমান ভর পাওয়া যাবে৷ তবে ভর কিন্তু কমে যাচ্ছে ক্রমশ৷ পরিমাণে সেটা বিশাল হলেও মূল ভরের তুলনায় নগণ্য৷ সৌরবায়ুর সময় সূর্য সেকেন্ডে ১৫ লাখ টন ভর হারায়৷ অভ্যন্তরে চলা ফিউশন বিক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত ভর থেকে আলো ও তাপশক্তি তৈরি হচ্ছে৷ এভাবে প্রতি সেকেন্ডে খরচ হচ্ছে ৪০ লাখ টন পদার্থ৷ সব মিলিয়ে সূর্য তার ৪৫০ কোটি বছরের জীবনে ভর হারিয়েছে পৃথিবীর ভরের ১০০ গুণ পদার্থ৷ দেখতে বিশাল লাগলেও এটা সূর্যের ভরের মাত্র ০.০৫ ভাগ। অন্য কথায় দশ হাজার ভাগের ৫ ভাগ৷ সারা জীবনে সূর্য এক হাজার ভাগের মাত্র ৭ ভাগ ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করবে৷</p>
<p>তবে সূর্যের বাহাদুরি শুধু সৌরজগতেই। পৃথিবী বা সৌরজগতের অন্যান্য বস্তুর তুলনায় প্রকাণ্ড হলেও সূর্য আসলে সাদামাটা এক তারা৷ রাতের আকাশের নবম উজ্জ্বল তারা বিটলজুস৷ কালপুরুষ তারামণ্ডলের দ্বিতীয় উজ্জ্বল এ তারা সূর্যের প্রায় ৭০০ গুণ বড় ও ১৪,০০০ গুণ উজ্জ্বল৷ বিটলজুসকে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে ভাল দেখা যায়৷ তবে এমন তারাও আছে যার তুলনায় বিটলজুসও নস্যি!</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/sun/sun_betelgeuse.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের তুলনায় বিটলজুস কত বিশাল দেখুন। এ তো সবে শুরু। আছে আরও বিশাল বিশাল তারাও।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>বিটলজুস তো সূর্যের ৭০০ গুণ বড়। মিউ সিফিয়াই তারা প্রায় এক হাজার গুণ বড় (৯৭২)। সূর্যের চেয়ে এক হাজার গুণ বা আরও বড় প্রায় ১০০ তারা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে ভিওয়াই ক্যানিস মেজোরিস তো ১৪২৯ গুণ বড়। ইউওয়াই স্কুটি ১৭০৮ গুণ। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় আকারের তারার নাম স্টিফেনসন ২-১৮। অন্য নাম স্টিফেনসন ২ ডিএফকে ১। সূর্যের তুলনায় ২১৫০ গুণ বড়। পৃথিবী থেকে দূরত্ব ১৯ হাজার আলোকবর্ষ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/planets_stars_sizes.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের চেয়ে বড় বড় তারকারা</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে আবার সূর্যের চেয়ে ছোট তারাও আছে। এমন তারাও আছে, যাদের ভর সূর্যের দশ ভাগের এক ভাগ। তবে সূর্যের চেয়ে বেশি ভারী তারা আবার জীবনের শেষ ভাগে অনেক ছোট হয়ে যায়। এই যেমন ব্ল্যাকহোল ও নিউট্রন তারা। জীবনের শেষভাগে ব্ল্যাকহোল তো বিন্দু বা রেখার মতো হয়ে যায়। আর নিউট্রন তারা হয় পৃথিবীর চেয়ে ছোট। জ্বালানি ফুরিয়ে গুটিয়ে যাবার সময় তৈরি নিউট্রন আরও ছোট হতে বাধা দেয়। ফলে তারাটা ব্ল্যাকহোল হতে পারে না। চওড়ায় হয় মাত্র ১২ মাইলের মতো। ঘন এ তারা থেকে একটি চিনির দানার সমান পদার্থ নিলে তার ভরই হবে একশো কোটি টন।</p>
<p>এখন সূর্যের আকার প্রায় ধ্রুব থাকলে আরও প্রায় ৫০০ কোটি সূর্য বড় হয়ে যাবে৷ ততদিনে হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হওয়ায় বন্ধ হবে হিলিয়াম তৈরির প্রক্রিয়া৷ ফলে ভেতরের অংশ গুটিয়ে একটা সময় লোহিত দানব ও পরে শ্বেত বামন তারায় পরিণত হবে৷ ওদিকে বাইরের অংশে তখনও চলমান ফিউশনের বহির্মুখী চাপে প্রসারিত হয়ে অনেকদূর বিস্তৃত হবে৷ বর্তমান আকার থেকে ২০০ গুণ বড়৷ বুধ ও শুক্রের কক্ষপথ চলে যাবে সূর্যের পেটের ভেতর। এবং সম্ভবত পৃথিবীও।</p>



 ]]></description>
  <category>সূর্য</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/how-big-is-sun.html</guid>
  <pubDate>Sat, 09 Sep 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>এ মাসের তারা: রোহিণী</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/aldebaran.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>‍‌‍‍রাতের আকাশে একেক মাসে একেক তারাদের মিলনমেলা বসে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বদলে যায় আকাশপট। আর সে কারণেই শীতের উজ্জ্বল তারাদের গ্রীষ্মের আকাশে দেখা প্রায় দেখা যায় না। এদের অনেকেই তখন আসলে থাকে দিনের আকাশে। বর্তমান রাতের আকাশের উজ্জ্ল একটি তারা রোহিণী। বৃষমণ্ডলের এ তারা নিয়েই শুরু হলো ব্যাপনের নতুন আয়োজন: তারা পরিচিতি। – সহকারী সম্পাদক লাল অংশটা আল‌‌‌াদা করে বক্সের ভেতর হবে। এক পেজে না হলে দুই পেজে একটা ছবিসহ। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে সৌন্দর্য-পিপাসুর মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কিন্তু তুমি কি জানো, খালি চোখে আমরা ঠিক কতগুলো তারা দেখতে পাই? প্রশ্নটির উত্তর আসলে এক বাক্যে দেওয়া সম্ভব নয়। এটা নির্ভর করবে তোমার বয়স, চোখের ক্ষমতা, এলাকা, ঋতু, আবহাওয়া, চাঁদ থাকা না থাকা ইত্যাদিসহ অনেকগুলো বিষয়ের উপর। কিন্তু তবুও একটা উত্তর যদি শুনতেই হই তবে সংখ্যাটা হবে কয়েক হাজার। গল্প- উপন্যাসের বইতে যে লাখ লাখ তারার কথা থাকে তা একেবারেই বাড়াবাড়ি। জটিলতা আছে আরও। রাতের আকাশের উজ্জ্বল বস্তুদের মধ্যে কিন্তু শুধু তারারাই আছে এমনটিও নয়। চাঁদের কথা না হয় বাদই দিলাম। আমরা যাকে শুকতারা বলি সেটিওতো আসলে তারা তথা নক্ষত্র নয় বরং শুক্র গ্রহ। এই শুক্র গ্রহই রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু (চাঁদকে বাদ দিয়ে)। অপরদিকে দ্বিতীয় উজ্জ্বল বস্তুও কিন্তু কোনো নক্ষত্র নয়। সেটি গ্রহরাজ বৃহস্পতি। পুরো মহাবিশ্বে মোট কত তারা আছে জানো? না জানলে দোষ নেই। আসলে তা কেউ জানে না। কারণ সত্যিকারের মহাবিশ্ব কত বড়ো তাই আমরা জানি না। তবে আমরা দৃশ্যমান মহাবিশ্বের কথা বলতে পারি। মহাবিশ্বের প্রায় চৌদ্দশো কোটি বছরের প্রসারণে এর যত দূর পর্যন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটা। আধুনিক টেলিস্কোপ দিয়ে আমরা অন্তত ১০ হাজার কোটি গ্যালাক্সি দেখতে পাই। প্রতি গ্যালাক্সিতেই গড়ে আবার ১০ হাজার কোটি তারকা থাকে। তাহলে শুধু আমাদের দৃষ্টি সীমার মধ্যেই কত কত তারা ভাবো একবার! ১ এর পরে অন্তত ২২টা শূন্য দিলে যা হয় ততগুলো! এর মধ্যে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথেই আছে প্রায় চারশো বিলিয়ন (চল্লিশ হাজার কোটি) তারা। আমরা খালি চোখে যাদেরকে দেখি তারা সব এখানকারই তারকা। যেসব তারার আপাত উজ্জ্বলতা (+৬) অথবা (+৬.৫) এর নিচে আমরা শুধু তাদেরকেই খালি চোখে দেখি। ও, মনে আছে তো, আপাত উজ্জ্বলতার মান বেশি হওয়া মানে তারার কম উজ্জ্বলতা বোঝায়। মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে আমরা সবাই হয় উত্তর নয়ত দক্ষিণ গোলার্ধে বাস করি। বাংলাদেশে থাকায় আমরা আছি উত্তর গোলার্ধে। এখন উভয় গোলার্ধ থেকে দেখা তারার সংখ্যা কিন্তু সমান হবে না। এমনকি একই গোলার্ধেও অক্ষাংশের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যাবে আকাশের তারার সংখ্যা। অন্য দিকে, তুমি যখন রাতে আকাশের দিকে তাকালে তখনওতো প্রায় অর্ধেক তারা রয়ে গেছে পৃথিবীর উল্টো পাশের আকাশে। আর সূর্য সব সময় কিছু না কিছু তারাকে ঢেকে রাখে। এরাই হল রাশিচক্রের তারা। এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে এদেরকে দেখা যায় না। তাই তারা গুনতে হলে কয়েক মাস এ জন্যেও অপেক্ষা করতে হবে। তাহলে আসলে কত তারা দেখা যায়। ঠিক আছে, ধরা যাক মাসের পর মাস সময় নিয়ে দুই গোলার্ধ ঘুরে এসে চাঁদহীন আকাশের তারাগুলো তুমি গুনে ফেললে। তবে সব মিলিয়ে প্রায় নয় হাজার তারা খালি চোখে দেখতে পাবে। আগেই বলেছি, আমরা খালি চোখে সর্বোচ্চ ৬.৫ মাত্রার নক্ষত্র দেখতে পাই। ইয়েল ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদ ডরিট হফলেইট এই সীমা পর্যন্ত তারগুলো গুনে ফেলেছেন। সংখ্যাটি হয়েছে ৯০৯৬। এটা হচ্ছে সর্বমোট সংখ্যা। এবার দুই গোলার্ধ ভাগ করে দিলে ভাগে পড়বে গড়ে ৪৫৪৮টি তারা। সব সময় আবার আকাশের এক অংশ আমাদের উল্টো পাশে থাকে। তাই আবার দুই দিয়ে ভাগ দিলে পাব ২২৭৪ টি তারা। এ জন্যেই আমরা বলি খালি চোখে আমরা একবারে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই হাজার তারা দেখতে পাই। কিন্তু সাথে একখানা দুরবিন থাকলেই এই সংখ্যা লাফ দিয়ে উঠে যাবে ২ লাখে! তুমি দেখতে পাবে ৯ মাত্রার তারাগুলোও। ১৩ মাত্রার তারা দেখাতে সক্ষম এমন টেলিস্কোপ হাতে পেলে দেড় কোটি পর্যন্ত তারা দেখা যাবে। দারুণ, তাই না! শুরু করছি রাতের আকাশের চতুর্দশ উজ্জ্বল তারার গল্প দিয়ে। নাম রোহিণী। অবস্থান বৃষমণ্ডলে (Taurus)। এ মণ্ডলটা রাশিচক্রের ১২টি (বর্তমানে ১৩টি) মণ্ডলের অন্যতম। সূর্যকে আকাশের ৮৮টি মণ্ডলের যেগুলোর ওপর দিয়ে চলছে মনে হয় সে তারামণডলগুলোরই নাম রাশিচক্র। ইংরেজি নাম অ্যালডেবারান এসেছে আরবি উৎস থেকে। অর্থ অনুসারী। তারাটা পাশের কৃত্তিকামণ্ডলকে (Pleiades) অনুসরণ করে বলে মনে হয় বলেই এ নাম। মণ্ডলের উজ্জ্বলতম তারা হিসেবে তারাটার বেয়ার নাম আলফা টোরাই। দেখতে একটি তারা মনে হলেও আসলে আমরা দুটো তারার মিলিত আলোকে রোহিণী হিসেবে দেখি। আরকেটি তারা অবশ্য বেশ (৯৬ হাজার গুণ) অুনজ্জ্বল। নাম আলফা টোরাই বি। রাতের আকাশে খুব সহজেই তারাটাকে খুঁজে পাওয়া যায়। আগেই বলেছি, তারাটা আছে বৃষমণ্ডলে। আর এ মণ্ডল দেখার সেরা সময় জানুয়ারি মাসের রাত নয়টা। মণ্ডলটা দেখা যায় না শুধু মে-জুন মাসে। বছরের বাকি সময় রাতের কোনো না কোনো সময় একে দেখা যাবেই। জানুয়ারির পরের মাসগুলোতে প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে আগে সন্ধ্যার পর পশ্চিমে হেলতে থাকে।</p>
<p>ডিসেম্বরের শুরুতেই সন্ধ্যার একটু পরে উত্তর গোলার্ধের আকাশে এটি উদিত হয়। প্রায় সারারাত আকাশে থাকে। সকালের দিকে ডুবে যায়। তিন মাস পরে সন্ধ্যার সময়ই এটি মাথার উপর চলে আসে। মধ্যরাতে ডুবে যায়। মে মাসের শুরুতেই সন্ধ্যায় দিগন্তের কাছে চলে যায়। মে মাস শেষ হতে হতে হারিয়ে যায় দিগন্তের ওপারে। ডুবে যায় সন্ধ্যার আগেই। জুনের শেষ দিকে আবার ভোরের আকাশে দেখা যায়। পূর্ব আকাশে সূর্যের আগে উদিত হয়।</p>
<p>একে খুঁজে পেতে কাজে লাগে আদমসুরত বা কালপুরুষ মণ্ডল। মানুষের আকৃতির এ মণ্ডলের কোমরের তিন তারাকে বলে কালপুরুষ বেষ্টনী। বেষ্টনীর তিন তারাকে যোগ করে ডানে এগোলেই পাওয়া যাবে উজ্জ্বল তারা রোহিণিকে। একই রেখা ধরে আরও সামনে গেলেই পাওয়া যাবে কৃত্তিকা। তিনটি তারা থেকে বামে গেলে আবার পাওয়া যাবে রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা লুব্ধক।</p>
<p>রোহিণীর বিষুব লম্ব (declination) ১৬.৫ ডিগ্রি। বাংলাদেশ থেকে দেখতে মাথার ওপর থেকে কিছুটা দক্ষিণ দিয়ে চলে এটি। সূর্যপথ থেকে ৫.৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণে এর অবস্থান। ফলে সময় সময় চাঁদ একে ঢেকে দেয়৷ পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের কক্ষপথ সূর্যপথের সাপেক্ষে ৫.১৫ ডিগ্রি হেলে আছে। চাঁদ বেশিরভাগ সময় সূর্যপথের এপাশ বা ওপাশে থাকে। মাসে দুইবার সূর্যপথকে অতিক্রম করে উত্তরে-দক্ষিণে আসে। এ কারণে সৌরজগতের অন্য বস্তু থেকে চাঁদকে একটু দূরে উত্তর বা দক্ষিণে দেখা যায়।</p>
<p>রোহিণীর পাশেই আছে দুটি উজ্জ্বল তারানকশা। আছে কৃত্তিকা ও হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জ। পাশে বলতে আকাশপটে পাশে। পৃথিবী থেকে দেখতে। বাস্তবে রোহিণীর সাথে কোনোটিরই কোনো সম্পর্কে নেই। দুটোরই অবস্থান তারাটি থেকে অনেক দূরে। কৃত্তিকার দূরত্ব পৃথিবী থেকে ৪৪৪ আলোকবর্ষ। আরও কাছে আছে আরেক বিখ্যাত নক্ষত্রপুঞ্জ হায়াডিজ। দূরত্ব ১৪৪ আলোকবর্ষ। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত এক ইতিহাস (আলোর মহাকর্ষীয় বক্রতার প্রমাণ। সে গল্প আরেকদিন)।</p>
<p>৬৫ আলোকবর্ষ দূরের রোহিণী তারাটি বৃষমণ্ডলেরও উজ্জ্বলতম তারা। এটি একটি লোহিত দানব ধরনের তারা। পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সূর্যের চেয়ে কম (৩৯০০ কেলভিন, যেখানে সূর্যের ৫৭০০ কেলভিন)। তবে আকারে সূর্যের তুলনায় অনেক বড়। ব্যাসার্ধ সূর্যের ৪৫ গুণ। একে সূর্যের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হলে বুধের কক্ষপথও এর পেটের ভেতর চলে যাবে। অভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি সূর্যের ৪০০ গুণেরও বেশি।</p>
<p>তারাটি বিষম। মানে সময়ের সাথে সাথে উজ্জ্বলতার পরিবর্তন হয়। তবে সে পরিবর্তন খালি চোখে বোঝা যায় না। খুব ধীরে আবর্তন করে। পূর্ণ এক আবর্তনে সময় লাগে ৫২০ দিন। যেখানে সূর্যের লাগে প্রায় ২৭ দিন।</p>
<p>মহাকাশ অভিযানের সাথে রোহিণীর একটি মজার ব্যাপার আছে। ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করা নাসার মহাকাশ অনুসন্ধানী যান পাইওনিয়ার ১০ প্রায় ২০ লক্ষ বছর পর নক্ষত্রটাকে অতিক্রম করবে। যদিও যানটির সাথে পৃথিবীর এখন আর কোনো যোগোযোগ নেই।</p>
<p>সূত্র: আর্থস্কাই</p>



 ]]></description>
  <category>সূর্য</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/aldebaran.html</guid>
  <pubDate>Sat, 09 Sep 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>মহাবিশ্বের জন্মের আগের নক্ষত্র!</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/star-vs-universe.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>মহাবিশ্বের বয়স নির্ণয়ের একটি উপায়ই হলো সবচেয়ে পুরাতন নক্ষত্রের বয়স দেখা। মহাবিশ্বের জন্মের অল্প কিছুকাল পরেই নক্ষত্রের জন্ম হয়ে গিয়েছিল। মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ধরা হয় ১৩৮০ কোটি বছর। আর মনে করা হয়, সবচেয়ে প্রাচীন ভ্রুণতারার (protostar) জন্ম হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের ৩০ কোটি বছর পর।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizYtljb3X3TLiSDvaCz3IBSClhWKRJguDT_xqpqBxoLW-oT1I4zpbiYya5IfsGW4yaEC6fpSmcq1qifh5fgwWC6w3U7330KqfeOk5_SzKKH5kPabNjICShMYWGFZtHSP9ksJUZr0xfaU4/s640/universe.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>মহাবিশ্বের জন্মের আগেই কি নক্ষত্রের জন্ম হয়েছিল?</figcaption>
</figure>
</div>
<p>বিগ ব্যাং থেকে নক্ষত্রের জন্মের সময়টা নিয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক।</p>
<p>আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিসহ সব গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যাসীয় মেঘ ও ধুলিকণা। প্রাথমিক অবস্থায় এদেরকে বলা হয় নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula)। সাধারণত এক একটি নেবুলা আড়াআড়িভাবে বহু আলোকবর্ষ পরিমাণ জুড়ে বিস্তৃত থাকে। একটি নেবুলাতে যে পরিমাণ গ্যাস থাকে তা দিয়েই আমাদের সূর্যের মতো কয়েক হাজার নক্ষত্রের জন্ম হতে পারে। নেবুলার অধিকাংশ উপাদানই হচ্ছে বিভিন্ন হালকা গ্যাস- বিশেষ করে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অণু। এই গ্যাস ও ধুলিকণা ঘনীভূত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণ অভিকর্ষ উৎপন্ন করলে নিজস্ব অভিকর্ষের চাপেই সঙ্কুচিত হতে থাকে। কোনো কোনো জ্যোতির্বিদ আবার মনে করেন, এই অন্তর্মুখী সঙ্কোচনের জন্য শুধু অভিকর্ষই নয়, গ্যাস ও ধুলিকণায় সৃষ্ট চৌম্বকক্ষেত্রও দায়ী।</p>
<p>গ্যাসগুলো জড় হতে হতে বিভব শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং বাড়িয়ে ফেলে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে সঙ্কোচনশীল গ্যাস বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে এক একটি আলাদা নক্ষত্র তৈরি হয়। এই তারকার অন্তর্বস্তুর সঙ্কোচনের হার হয় অনেক বেশি। এর গ্যাসীয় মেঘ অনেক দ্রুত আবর্তন করে করে এর কৌণিক ভরবেগ বজায় রাখে। এক সময় এই নক্ষত্রের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার কেলভিনে পৌঁছায়। এই অবস্থায় হাইড্রোজেন অণু ভেঙ্গে গিয়ে মৌলটির পরমাণুতে পরিণত হয়। এর তাপমাত্রা এক সময় উঠে যায় ১০ হাজার কেলভিনে। সঙ্কুচিত হয়ে সূর্যের প্রায় ৩০ গুণ আয়তন লাভ করলে এই নব-সৃষ্ট তারকাকে বলে প্রোটোস্টার বা ভ্রুণতারা (protostar)। এবার এতে হাইড্রোজেন পরমাণু জোড়া লেগে লেগে হিলিয়ামে পরিণত হতে থাকে। এই নিউক্লিয় বিক্রিয়াটিকে বলে ফিউশন বা সংযোজন (fusion) বিক্রিয়া।</p>
<p>ফিউশন বিক্রিয়া চলার সময় নক্ষত্রের নাম হয় প্রধান ক্রমের তারা (main sequence star)। আমাদের সূর্য এখন এই দশায় আছে।</p>
<p>মূল কথায় ফিরে আসা যাক। মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর হলে এর ভেতরের সব নক্ষত্রের বয়স অবশ্যই এর চেয়ে কম হওয়া উচিত। কিন্তু ২০১৩ সালে পাওয়া গেল বিপরীত এক পর্যবেক্ষণ। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ খুঁজে পেল ব্যতিক্রমী এক তারা। নাম মেথুসেলাহ। হিসেব করে এর বয়স পাওয়া যাচ্ছে ১৪৫০ কোটি বছর। যা সর্বোচ্চ ৮০ কোটি এদিক-ওদিক হতে পারে। কিন্তু মহাবিশ্বের বয়সের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্র কীভাবে এল?</p>
<p>জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ। একদল বিজ্ঞানী তাই ভাবছেন, নিশ্চয় মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে।</p>
<p>গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আশা করা হয়েছিল, এখানে একটি সমাধান মিলবে। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের মৌলিক জ্ঞানই সম্ভবত ত্রুটিপূর্ণ।</p>
<p>বড় কাঠামোয় মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলতে গেলেই চলে আসে আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা (general relativity)। নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্বের আধুনিক রূপ এটি। ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন প্রথম প্রকাশ করেন তত্ত্বটি। অনেকের মতেই, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল তত্ত্ব। ব্ল্যাক হোল থেকে শুরু কাল দীর্ঘায়ন– সব কিছুই সঠিক ব্যাখ্যা করছে তত্ত্বটি। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাফল্যও কম নয়।</p>
<p>সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব সফল হলেও অনেক সময় এর কিছু ফলাফল দেখে অবাক হতে হয়। প্রথম অবাক হবার পালা আইনস্টাইনের নিজেরই। তিনি দেখলেন, তত্ত্ব বলছে, মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। তিনি তখনও স্থির মহাবিশ্বে বিশ্বাসী। যেমনটা ছিলেন নিউটন। আইনস্টাইন ভাবলেন, তত্ত্বে কোনো ভুল আছে। তাই তত্ত্বের সমীকরণে একটি বাড়তি ধ্রুবক লাগিয়ে সেই ভুল দূর করার চেষ্টা করলেন।</p>
<p>পরে ১৯২০ এর দশকে হাবল আবিষ্কার করলেন, সেটা কোনো ভুল ছিল না। আইনস্টাইন পরে স্বীকার করেন, এটা ছিল তাঁর জীবনের সেরা ভুল।</p>
<p>অবশেষে জানা গেল, মহাবিশ্বের একটি সূচনা আছে। অনন্তকাল ধরে মহাবিশ্ব ছিল না। তাই মহাবিশ্বের বয়স বের করার প্রচেষ্টা শুরু হলো। কিন্তু বয়স দেখে তো বিজ্ঞানীরা হতবাক। এ যে মাত্র ২০০ কোটি বছর। যেখানে পৃথিবীরই বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।</p>
<p>ফ্রেড হয়েল প্রস্তাব করলেন, মহাবিশ্বের আসলে সূচনা-টূচনা বলে কিছু নেই। সব বাজে কথা। মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে টিকে আছে একইভাবে। নিজের মত প্রমাণ করতে তিনি আইনস্টাইনের সমীকরণও ব্যবহার করলেন। তবে তাঁর সমাধান সমস্যা কমানোর চেয়ে বাড়াতেই বেশি অবদান রাখল। নতুন পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেল, মহাবিশ্বের বয়স ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন বছর হয়। মানে এক হাজার থেকে দুই হাজার কোটি বছর। গ্রহণযোগ্য এই মতের চাপে হয়েলের মত বাতিল হয়ে গেল।</p>
<p>কিন্তু সমাধান কি আদৌ হয়েছে? বয়সের সমস্যা হাজির হয়েছে আবারও। গত মাসের সম্মেলনে বয়স নিয়ে বেশ কজন বিজ্ঞানী নতুন করে হিসেব দিয়েছেন। কিছু দিন আগে হলেও এসব নতুন হিসেবকে কেউ পাত্তা দিতেন না। বিগ ব্যাংয়ের পরবর্তী সময়ে নির্গত হয় মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণ (cosmic microwave background)। যার রেশ আছে আজকের পৃথিবী ও মহাবিশ্বেও। এই বিকিরণের তথ্য কাজে লাগিয়ে মহাবিশ্বের বয়সের নির্ভরযোগ্য হিসেব পাওয়া যায়।</p>
<p>পটভূমি বিকিরণ দিয়ে পাওয়া হিসেবের সাথে মিলে যায় সরাসরি বের করা হিসেবও। দূরের ছায়াপথের নক্ষত্রের প্রসারণ দেখে মহাবিশ্বের প্রসারণ বেগ বের করা যায়। সেখান থেকে জানা যায়, মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় আসতে কত সময় নিয়েছিল। এই দুটি হিসেব দারুণভাবে মিলে যায়। একই সাথে হিসেবটি ছিল দারুণ সূক্ষ্ম।। আবার সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্রের বয়সের চেয়ে এই বয়স বেশিও ছিল। ফলে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল।</p>
<p>কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহাবিশ্বের দুটো বয়স আলাদা। পার্শ্ববর্তী ছায়াপথদের কাজে লাগিয়ে পাওয়া বয়সের সাথে বিকিরণ থেকে হিসেব করা বয়সের পার্থক্য কয়েক হাজার কোটি বছর। যাকে হেসে উড়িয়ে দেওয়া অসম্ভব। তাও আবার দেখা যাচ্ছে মহাবিশ্বের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্রেরও অস্তিত্ব আছে।</p>
<p>এত কিছু যে নক্ষত্র নিয়ে তার নাম এইচডি ১৪০২৮৩। অন্য তারার মতোই খটমটে এক নাম। তবে ডাক নামও আছে একখান। মেথুসেলাহ। ১৯১২ সাল থেকেই নক্ষত্রটি বিজ্ঞানীদের চেনা। দূরত্বও পৃথিবী থেকে বেশি নয়— মাত্র ১৯০ আলোকবর্ষ।</p>
<p>বিজ্ঞানীরা এখন জানেন, নক্ষত্রটিতে লোহার পরিমাণ খুব সামান্য। তার মানে এর জন্ম হয়েছিল এমন সময় যখন মহাবিশ্বে লোহা খুব কম ছিল। আর তার মানে এর বয়স অন্তত মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি।</p>
<p>তাহলে কি মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে? প্রসারণ থেকে মহাবিশ্বের বয়স বের করতে হলে অনেক কিছুই সঠিকভাবে জানা দরকার। এই যেমন ছায়াপথরা একে অপর থেকে কত বেগে সরে যাচ্ছে, কত দূরে থাকলে কত দ্রুত সরছে ইত্যাদি। আর দূরের ছায়াপথের ক্ষেত্রে এই মানগুলো বিজ্ঞানীরা বের করেন অনেক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে।</p>
<p>এটা যাচাই করার জন্য অন্য উপায়ে প্রসারণ বের করতে হয়। বিকল্প এসব উপায়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো মহাকর্ষ তরঙ্গ। ভারী নক্ষত্রদের মিলনে সৃষ্ট স্থান-কালের ঢেউ।</p>
<p>গত মাসের সম্মেলনের বেশ কয়েক দিন আগে এ বিষয়ে নেচার অ্যাস্ট্রোনোমি জার্নালে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এখানে মহাকর্ষ তরঙ্গ দিয়ে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার দেখানো হয়। ব্যবহার করা হয় ২০১৭ সালের একটি মহাকর্ষ তরঙ্গ।</p>
<p>কিন্তু এই হার দিয়েও মেথুসেলাহ নক্ষত্রের রহস্যের সমাধান হচ্ছে না। সমাধান হচ্ছে না মহাজগতের বয়স সমস্যারও। কেউ কেউ তাই আবার পদার্থবিদ্যার আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।</p>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>মহাবিশ্ব</category>
  <category>কসমোলজি</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/star-vs-universe.html</guid>
  <pubDate>Mon, 09 Oct 2017 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizYtljb3X3TLiSDvaCz3IBSClhWKRJguDT_xqpqBxoLW-oT1I4zpbiYya5IfsGW4yaEC6fpSmcq1qifh5fgwWC6w3U7330KqfeOk5_SzKKH5kPabNjICShMYWGFZtHSP9ksJUZr0xfaU4/s640/universe.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>এক পারসেক কত বড়?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ</dc:creator>
  <link>https://www.bishwo.com/posts/parsec.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>জ্যোতির্বিদ্যায় মিটার-কিলোমিটার দিয়ে কাজ চলে না। দরকার হয় অনেক বড় বড় একক। এই যেমন এক এইউ হলো পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব। ১৫ কোটি কিলোমিটার। আরও বড় দূরত্বে ব্যবহার করা হয় আলোকবর্ষ। যা আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্ব।</p>
<p>আরেকটু বড় একটি একক হলো পারসেক। এর মান আলোকবর্ষের প্রায় তিনগুণ। সঠিক করে বললে ৩.২৬ গুণ। মানে, এক পারসেক = ৩.২৬ আলোকবর্ষ৷</p>
<p>পারসেক কথাটা এসেছে প্যারালাক্স অব ওয়ান সেকেন্ড বা এক সেকেন্ডের প্যারালাক্স থেকে। তাহলে প্যারালাক্স কী জিনিস বুঝে নেই চলুন।</p>
<p>হাতটা লম্বা করে চোখের সামনে এনে একটি আঙুল খাড়া করুন। এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখে আঙ্গুলটি দেখুন। এবার খোলা চোখ বন্ধ করে অন্য চোখে দেখুন। দেখবেন আঙ্গুলের অবস্থান দুই চোখ দুই জায়গায় দেখছে। দুই অবস্থানের এ কৌণিক পরিবর্তনের নামই প্যারালাক্স।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/theory/parallax.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>প্যারালাক্সের পরিবর্তন</figcaption>
</figure>
</div>
<p>চোখ থেকে বস্তু যত দূরে হবে, এ কোণ তত ছোট হবে। যতটা দূরে গেলে কোণের পরিমাণ এক আর্কসেকেন্ড হবে তারই নাম এক পারসেক। এখন এক আর্কসেকেন্ড জিনিসটা বুঝলেই কেল্লাফতে!</p>
<p>এক ডিগ্রি কতটুকু তা আমরা সহজেই বুঝি। চোখ মেললেই সর্বত্র ৯০ ডিগ্রি বা সমকোণ দেখা যায়। চৌরাস্তায় আছে চারটা সমকোণ। বিল্ডিংয়ের দেয়াল ও ছাদের মিলনস্থলে আছে সমকোণ। আর এর ৯০ ভাগের এক ভাগই এক ডিগ্রি। এক ডিগ্রির ৬০ ভাগের এক ভাগকে বলে আর্কমিনিট। তাকে আবার ৬০ ভাগ করলেই হয় আর্কসেকেন্ড।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/theory/parsec.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>পারসেকের পরিমাপ</figcaption>
</figure>
</div>
<p>মানে এক আর্কসেকেন্ড হলো আর্কমিনিটের ৬০ ভাগের এক ভাগ। আর আর্কমিনিট হলো ডিগ্রির ৬০ ভাগের এক ভাগ। তাহলে এক আর্কসেকেন্ড হল এক ডিগ্রির ৩৬০০ ভাগের এক ভাগ।</p>
<p>রাতের আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বল তারা স্বাতী। এটি পৃথিবী থেকে ১১.২৬ পারসেক দূরে আছে। দূরত্বটা পাওয়া গেছে এর প্যারালাক্স মেপেই। তারাটির প্যারালাক্স হলো ৮৮.৮৩ মিলিআর্কসেকেন্ড।</p>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>মহাবিশ্ব</category>
  <category>দূরত্ব</category>
  <category>পরিভাষা</category>
  <guid>https://www.bishwo.com/posts/parsec.html</guid>
  <pubDate>Fri, 09 Oct 2015 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://www.bishwo.com/img/universe/universe.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
</channel>
</rss>
