<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss  xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" 
      xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" 
      xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" 
      xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" 
      version="2.0">
<channel>
<title>বিশ্ব ডট কম</title>
<link>https://portal.statmania.info/</link>
<atom:link href="https://portal.statmania.info/index.xml" rel="self" type="application/rss+xml"/>
<description></description>
<generator>quarto-1.9.37</generator>
<lastBuildDate>Tue, 14 Apr 2026 18:00:00 GMT</lastBuildDate>
<item>
  <title>আর্টিমিস ২ পৃথিবী ছেড়ে যায়নি!</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ  </dc:creator>
  <link>https://portal.statmania.info/posts/artemis-did-not-leave.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>পৃথিবী থেকে চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশ্য রওনা দিলেন। ৯ দিন পর ফিরে এলেন নিজ গ্রহে। কিন্তু পৃথিবী তো ঘুরছে সূর্যের চারপাশে। তার মানে ৯ দিন পর তো এটি আর আগের জায়গায় নেই। তাহলে আর্টিমিস কীভাবে ফিরে এল? ফিরে ঠিক কোথায় এল? পৃথিবীর নতুন অবস্থানে নিজেকে কীভাবে নিয়ে গেল?</p>
<p>যানটি কিন্তু পৃথিবীর নতুন অবস্থানেই ফিরে এসেছে। লুপের মতো করে চাঁদকে ঘুরে এসে নোঙর ফেলেছে পৃথিবীর বুকে।</p>
<p>পৃথিবী সূর্যের চারদিকে চলছে সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে। ঘণ্টায় ১ লাখ কিলোমিটারের বেশি। তারমানে আর্টিমিস ২ পৃথিবীতে আসতে আসতে পৃথিবী আগের জায়গা থেকে দূরে সরেছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার কিলোমিটার। অথচ পুরো ভ্রমণপথে যানটি নিজে চলেছে মাত্র প্রায় ১১ লাখ ২৭ হাজার কিলোমিটার পথ। তাহলে পৃথিবীকে ধরার জন্য বাড়তি দূরত্বটা কীভাবে পার হলো?</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://portal.statmania.info/img/solar-system/sun-earth-moon.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ও চাঁদের প্রদক্ষিণ</figcaption>
</figure>
</div>
<p>সত্যি বলতে, আর্টিমিস ২ কখনোই পৃথিবীকে ছেড়ে যায়নি। আরও ভাল করে বললে, পৃথিবীর গতি থেকে আলাদা হয়নি। কারণ এটি ছিল পৃথিবীর মহাকর্ষ ক্ষেত্রের মধ্যেই। যেমনিভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা চাঁদ নিজেও পৃথিবীর মহাকর্ষের খোলসে বন্দি। বিমান যেভাবে নিজ গতির সাথে সাথে পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে ঘুরতে থাকে আকাশেও। আমরাও পৃথিবীর সাথে সাথে ঘুরি বলে বাড়তি সে গতি টের পাই না।</p>
<p>ফলে পৃথিবীকে ছেড়ে যাওয়ার সময় যানটির গতি আসলে শূন্য ছিল না। পৃথিবীর নিজস্ব গতি এর মধ্য ছিলই। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছেড়ে যাওয়ার পরেও এটি সে গতিতে চলছিলই। চাঁদের দিকে যাওয়ার জন্য বাড়তি বেগ জ্বালানির সাহায্যে তৈরি করেছিল। কিন্তু পৃথিবীর সাথে সাথে চলার সেই অন্তর্নিহিত গতি অব্যাহত ছিল। নিউটনের গতির সূত্র বলছে, গতি অব্যাহত রাখার জন্য বাড়তি কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। গতি থামানোর জন্য বা পরিবর্তন করার জন্য বল প্রয়োজন। ফলে আর্টিমিসের পৃথিবী থেকে পাওয়া গতি অবিরত ছিল।</p>
<p>চাঁদ আগে থেকেই পৃথিবীর সাথে সাথে চলছে। ঘুরছে সূর্যের চারদিকে। বাড়তি গতি হিসেবে ঘুরছে পৃথিবীর চারপাশেও। ফলে চাঁদে যাওয়ার জন্য নভোচারী চাঁদকে তাড়া করে বেড়ায় না। পৃথিবী ও চাঁদের গতি অন্য গ্রহ-উপগ্রহদের ন্যায় অনুমানযোগ্য পথ ধরে চলে। কখন কোথায় থাকবে তা আগে থেকেই জানা।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://portal.statmania.info/img/mission/artemis-ii-trajectory.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>পৃথিবী থেকে যে পথে চাঁদ ঘুরে এসেছে আর্টিমিস ২ যান</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তাই চাঁদে যাওয়ার জন্য চাঁদকে তাড়া না করে একটি ভবিষ্যৎ গন্তব্য ঠিক করা হয়। যান সে বিন্দুতে যেতে যেতে চাঁদও সেখানে গিয়ে হাজির হয়। হয়ে যায় দেখা। এভাবে বক্র পথেই চলে যানের ভ্রমণরেখা। চাঁদকে ঘুরে এসে যান আবার পৃথিবীমুখী হয়। আর্টিমিস ২-কে পৃথিবীর উদ্দেশ্য নতুন করে যাত্রা করতে হয়নি। এটি পৃথিবীর গতির তালে তালেই চলছিল। যানটি পৃথিবী ত্যাগ করল, চাঁদে গেল, আবার পৃথিবীতে ফিরে এল। এই পুরো সময়ে সবকিছুই ছিল পৃথিবীর সাথে সাথেই।</p>



<p>&lt;www.bishwo.com&gt;</p> ]]></description>
  <category>মহাকাশযান</category>
  <category>চাঁদ</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://portal.statmania.info/posts/artemis-did-not-leave.html</guid>
  <pubDate>Tue, 14 Apr 2026 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://portal.statmania.info/img/mission/artemis-ii-trajectory.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
<item>
  <title>লোহিত দানব তারার গল্প</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ  </dc:creator>
  <link>https://portal.statmania.info/posts/red-giant.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>টকটকে লাল লোহিত দানব তারা৷ তবে জন্ম নিয়েই সাথে সাথে লোহিত দানব হয়ে যায় না৷ জন্মের সময় বিশাল ভরের তারা নিজের ভরে চুপসে যেতে চায়৷ শক্তিশালী মহাকর্ষ তারার হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের গ্যাসীয় মেঘকে গুটিয়ে ফেলতে থাকে৷ এ থেকেই জোড়া লাগতে শুরু করে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস। শুরু হয় ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়াম তৈরির প্রক্রিয়া৷ এভাবেই তৈরি হয় আলো ও তাপ৷ এ বিক্রিয়া তৈরি করে বহির্মুখী চাপ৷ আর তাতেই মহাকর্ষ ও ফিউশন ভাপের টানাটানিতে একটি তারা ভারসাম্যে থাকে৷ তারার এ দশাকে বলে প্রধান ক্রম।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/red_giant.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানব তারা</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে এটা তো আর চিরদিন চলা সম্ভব নয়। প্রায় ৭৫ ভাগ হাইড্রোজেন নিয়ে তারার জন্ম। একটা সময় কোর বা কেন্দ্রভাগের হাইড্রোজেন শেষ হয়ে যায়৷ তারা যত ভারী, তত দ্রুত ফুরোয় তার জ্বালানি৷ কারণ মহাকর্ষ শক্তিশালী হওয়ায় ফিউশন চলে দ্রুত গতিতে। ফলে ভর বেশি হলেও ভারী তারার জ্বালানি আগে শেষ হয়। সবচেয়ে ভারী তারারা তো সুপারনোভা হওয়ার আগে মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছর জ্বলে। যেখানে সূর্যের মতো গড়পড়তা তারাদের ফিউশন চলে প্রায় এক হাজার কোটি বছর ধরে। জ্বালানি শেষ হলেই তারার ভারসাম্যও শেষ৷ কোর বা কেন্দ্রভাগ আবার গুটোতে থাকে৷ তবে কোরের চারপাশের খোলসে থাকা প্লাজমা পদার্থ উত্তপ্ত হয়ে হয়ে নিজেই ফিউশন শুরু করে৷</p>
<p>খোলসের এ ফিউশনের ফলে তৈরি বাড়তি তাপ তারার বাইরের অংশকে নাটকীয়ভাবে প্রসারিত করে দেয়৷ তারার পৃষ্ঠ আগের চেয়ে কয়েকশো গুণ বড় হয়ে যায়৷ সূর্যও এসময় প্রায় ২০০ গুণ বড় হয়ে যাবে৷ তারার শক্তি এ সময় বড় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হয়ে পড়ে৷ ফলে তাপমাত্রা কমে আসে৷ তাতে তার রং বদলে সাদা বা হলুদ থেকে লাল হয়৷ তৈরি হয় রেড জায়ান্ট বা লোহিত দানব৷ তাপমাত্রা নেমে আসে ৫ হাজার কেলভিনে৷ আগে যেখানে ছিল ৬ থেকে ৩০ হাজার কেলভিন৷ তবে সত্যি বলতে, রেড জায়ান্টরা আসলে দেখতে কমলা। লাল হতে হলে তাপমাত্রা হতে হবে আরও কম। চার হাজার কেলভিনের নিচে।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/star_evolution.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>নক্ষত্রের বিবর্তন</figcaption>
</figure>
</div>
<p>ব্যাপারটা রাতারাতি ঘটে যায় না। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে কোটি কোটি বছর৷ প্রধান ক্রম দশা শেষে সব তারা কিন্তু লোহিত দানব হবে না৷ জন্মের সময় ভর সূর্যের ৮০ ভাগ থেকে ৮ গুণ পর্যন্ত হলেই কেবল তারা লোহিত দানব হতে পারে৷ আরও বড় হলে তারা জ্বালানি ফুরিয়ে হয় রেড সুপারজায়ান্ট বা অতিদানব৷ পরে ঘটায় সুপারনোভা বিস্ফোরণ৷ রেড জায়ান্টরা সাধারণত বিস্ফোরণ ঘটায় না। তবে পাশে কোনো শ্বেত বামন তারা থাকলে সেটা লোহিত দানবের জ্বালানি চুরি করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে৷ এর নাম নোভা বিস্ফোরণ৷</p>
<p>তারা রেড জায়ান্ট দশায় থাকে প্রায় একশ বছর৷ সূর্যের কাছাকাছি ভরের তারাদের কোর হবে শ্বেত বামন৷ আর কেন্দ্রের তাপ ও চাপে বাইরের অংশ নিক্ষিপ্ত হয় মহাশূন্যে। এই নিক্ষিপ্ত অংশের নাম গ্রহ নীহারিকা (planetary nebula)। যদিও গ্রহের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ হাইড্রোজেন পরবর্তী হিলিয়াম ও আরও ভারী পদার্থের ফিউশনে তৈরি কার্বন ও অন্যান্য পদার্থ থাকে এ নীহারিকায়৷ এ নীহারিকা আশেপাশের পদার্থের সাথে একীভূত হতে পারে৷ হতে পারে নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির উপাদান। তবে বেশিদিন এরা টিকে থাকে না। কয়েক হাজার বছর থেকে শুরু করে এক লাখ বছরের কাছাকাছি পর্যন্ত চলতে পারে জীবন। তারপর মিলিয়ে যায় আন্তঃনাক্ষত্রিক জগতে।</p>
<p>আরও প্রায় পাঁচশো কোটি বছর সূর্য লোহিত দানব হবে। বর্তমান রাতের আকাশের পরিচিত অনেক তারাই বর্তমানে এ দশায় আছে৷ স্বাতী, ক্যাপেলা, অ্যালডেবারান, জ্যেষ্ঠা (antares) এদের মধ্যে অন্যতম। স্বাতী তো উত্তর গোলার্ধের রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা৷ সমগ্র রাতের আকাশে চতুর্থ উজ্জ্বল৷ ক্যাপেলা উজ্জ্বলতায় ষষ্ঠ৷ আর অ্যালডেবারান চতুর্দশ৷ আর অ্যান্টারিজ পনেরতম। এরা লোহিত দানব হয়েও রেড সুপাজায়ান্ট লোহিত অতিদানবদের চেয়েও পৃথিবীর আকাশে বেশি উজ্জ্বল। কারণ একটাই–দূরত্ব।</p>
<p>যেমন উজ্জ্বলতায় স্বাতী চতুর্থ আর বিটলজুস নবম। স্বাতী পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৬ আলোকবর্ষ দূরে৷ অভ্যন্তরীণ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি সূর্যের ১৭০ গুণ৷ ওদিকে লোহিত অতিদানব তারা বিটলজুসের দীপ্তি সূর্যের প্রায় এক লক্ষ গুণ (বিভিন্ন হিসাবে কম-বেশি আছে)। তবুও পৃথিবীর আকাশে বিটলজুস কম উজ্জ্বল। এর দূরত্ব যে ৫৪৮ আলোকবর্ষ!</p>
<p>সূত্র</p>
<ul>
<li>https://esahubble.org/wordbank/red-giant/</li>
<li>https://esahubble.org/wordbank/planetary-nebula/</li>
<li>https://socratic.org/questions/why-is-red-giant-red-in-color</li>
<li>https://earthsky.org/astronomy-essentials/what-are-red-giants-definition/</li>
<li>http://sunshine.chpc.utah.edu/Labs/StarLife/remnants.html#</li>
<li>https://www.cfa.harvard.edu/research/topic/planetary-nebulas#</li>
</ul>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>কসমোলজি</category>
  <guid>https://portal.statmania.info/posts/red-giant.html</guid>
  <pubDate>Mon, 09 Oct 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/red_giant.jpg?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>সূর্য কত বড়?</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ  </dc:creator>
  <link>https://portal.statmania.info/posts/how-big-is-sun.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>সূর্য সৌরজগতের সবচেয়ে বড় বস্তু। যেমন ভারী, তেমনি তার বিশাল অবয়ব৷ সৌরজগতের মোট ভরের ৯৯.৮৬ ভাগ ভরই সূর্যের একার৷ আর আকার? ১০৯টা পৃথিবীকে পাশাপাশি বসালে সূর্যের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত যাওয়া যাবে৷ মানে ব্যাস পৃথিবীর ১০৯ গুণ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>১০৯টা পৃথিবীকে একটার পর একটা বসিয়ে দিলে সূর্যের সমান চওড়া হবে।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে ফুটবলের মতো প্রায় গোলাকার সূর্যের পেটের ভেতরে বসিয়ে দেওয়া যাবে ১৩ লক্ষ সূর্য৷ এটাই প্রচলিত কথা। সংখ্যাটায় একটু গোলমাল আছে অবশ্য। এ সংখ্যা পাওয়া গেছে সূর্যের আয়তনকে পৃথিবীর আয়তন দিয়ে ভাগ করে। সেটাকেই স্বাভাবিক মনে হয়। তবে এটা সঠিক হত যদি পৃথিবীকে গলিয়ে সূর্যের পেটে ভরে রাখা যেতে। কিন্তু পৃথিবী শক্ত ও কঠিন পদার্থে তৈরি। পৃথিবীকে সূর্যের ভেতরে বসাতে গেলে এখানে-সেখানে ফাঁকা জায়গায় থেকে যাবে। পুরো আয়তন ভর্তি করা যাবে না। ফলে, সবমিলিয়ে সূর্যের ভেতরে জায়গা পাবে নয় ৯ লাখ ৩২ হাজার পৃথিবী।</p>
<p>সূর্যের আকার প্রায় পুরোপুরি গোলাকার৷ মেরু ও বিষুব অঞ্চলের ব্যবধান মাত্র ১০ কিলোমিটার বা ৬.২ মাইল৷ গড় ব্যাসার্ধ ৪,৩২,৪৫০ মাইল (৬,৯৬,০০০ কিলোমিটার)৷ ব্যাস ৮,৬৪,৯৩৮ মাইল বা ১৩,৯২,০০০ কিলোমিটার৷ তবে সূর্য আকারে চাঁদ ও পৃথিবীর তুলনায় বিশাল হলেও পৃথিবীর আকাশে চাঁদ ও সূর্যকে সমান দেখায়। এর কারণ, সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বড়। আবার, পৃথিবী থেকে দূরত্বও ৪০০ গুণ। ফলে পৃথিবীর আকাশে এ দুই বস্তুকে সাধারণত সমান দেখা যায়। তবে সবসময় নয়।</p>
<p>ভরও দারুণ বিশাল। তিন লাখ ত্রিশ হাজার পৃথিবী একত্র করলে সূর্যের সমান ভর পাওয়া যাবে৷ তবে ভর কিন্তু কমে যাচ্ছে ক্রমশ৷ পরিমাণে সেটা বিশাল হলেও মূল ভরের তুলনায় নগণ্য৷ সৌরবায়ুর সময় সূর্য সেকেন্ডে ১৫ লাখ টন ভর হারায়৷ অভ্যন্তরে চলা ফিউশন বিক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত ভর থেকে আলো ও তাপশক্তি তৈরি হচ্ছে৷ এভাবে প্রতি সেকেন্ডে খরচ হচ্ছে ৪০ লাখ টন পদার্থ৷ সব মিলিয়ে সূর্য তার ৪৫০ কোটি বছরের জীবনে ভর হারিয়েছে পৃথিবীর ভরের ১০০ গুণ পদার্থ৷ দেখতে বিশাল লাগলেও এটা সূর্যের ভরের মাত্র ০.০৫ ভাগ। অন্য কথায় দশ হাজার ভাগের ৫ ভাগ৷ সারা জীবনে সূর্য এক হাজার ভাগের মাত্র ৭ ভাগ ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করবে৷</p>
<p>তবে সূর্যের বাহাদুরি শুধু সৌরজগতেই। পৃথিবী বা সৌরজগতের অন্যান্য বস্তুর তুলনায় প্রকাণ্ড হলেও সূর্য আসলে সাদামাটা এক তারা৷ রাতের আকাশের নবম উজ্জ্বল তারা বিটলজুস৷ কালপুরুষ তারামণ্ডলের দ্বিতীয় উজ্জ্বল এ তারা সূর্যের প্রায় ৭০০ গুণ বড় ও ১৪,০০০ গুণ উজ্জ্বল৷ বিটলজুসকে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে ভাল দেখা যায়৷ তবে এমন তারাও আছে যার তুলনায় বিটলজুসও নস্যি!</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/sun/sun_betelgeuse.png?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের তুলনায় বিটলজুস কত বিশাল দেখুন। এ তো সবে শুরু। আছে আরও বিশাল বিশাল তারাও।</figcaption>
</figure>
</div>
<p>বিটলজুস তো সূর্যের ৭০০ গুণ বড়। মিউ সিফিয়াই তারা প্রায় এক হাজার গুণ বড় (৯৭২)। সূর্যের চেয়ে এক হাজার গুণ বা আরও বড় প্রায় ১০০ তারা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে ভিওয়াই ক্যানিস মেজোরিস তো ১৪২৯ গুণ বড়। ইউওয়াই স্কুটি ১৭০৮ গুণ। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় আকারের তারার নাম স্টিফেনসন ২-১৮। অন্য নাম স্টিফেনসন ২ ডিএফকে ১। সূর্যের তুলনায় ২১৫০ গুণ বড়। পৃথিবী থেকে দূরত্ব ১৯ হাজার আলোকবর্ষ।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/star/planets_stars_sizes.jpg?raw=true" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>সূর্যের চেয়ে বড় বড় তারকারা</figcaption>
</figure>
</div>
<p>তবে আবার সূর্যের চেয়ে ছোট তারাও আছে। এমন তারাও আছে, যাদের ভর সূর্যের দশ ভাগের এক ভাগ। তবে সূর্যের চেয়ে বেশি ভারী তারা আবার জীবনের শেষ ভাগে অনেক ছোট হয়ে যায়। এই যেমন ব্ল্যাকহোল ও নিউট্রন তারা। জীবনের শেষভাগে ব্ল্যাকহোল তো বিন্দু বা রেখার মতো হয়ে যায়। আর নিউট্রন তারা হয় পৃথিবীর চেয়ে ছোট। জ্বালানি ফুরিয়ে গুটিয়ে যাবার সময় তৈরি নিউট্রন আরও ছোট হতে বাধা দেয়। ফলে তারাটা ব্ল্যাকহোল হতে পারে না। চওড়ায় হয় মাত্র ১২ মাইলের মতো। ঘন এ তারা থেকে একটি চিনির দানার সমান পদার্থ নিলে তার ভরই হবে একশো কোটি টন।</p>
<p>এখন সূর্যের আকার প্রায় ধ্রুব থাকলে আরও প্রায় ৫০০ কোটি সূর্য বড় হয়ে যাবে৷ ততদিনে হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হওয়ায় বন্ধ হবে হিলিয়াম তৈরির প্রক্রিয়া৷ ফলে ভেতরের অংশ গুটিয়ে একটা সময় লোহিত দানব ও পরে শ্বেত বামন তারায় পরিণত হবে৷ ওদিকে বাইরের অংশে তখনও চলমান ফিউশনের বহির্মুখী চাপে প্রসারিত হয়ে অনেকদূর বিস্তৃত হবে৷ বর্তমান আকার থেকে ২০০ গুণ বড়৷ বুধ ও শুক্রের কক্ষপথ চলে যাবে সূর্যের পেটের ভেতর। এবং সম্ভবত পৃথিবীও।</p>



 ]]></description>
  <category>সূর্য</category>
  <category>সৌরজগৎ</category>
  <guid>https://portal.statmania.info/posts/how-big-is-sun.html</guid>
  <pubDate>Sat, 09 Sep 2023 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://github.com/bishwo-web/bishwo/blob/main/img/earth/earth_sun_size.png?raw=true" medium="image"/>
</item>
<item>
  <title>মহাবিশ্বের জন্মের আগের নক্ষত্র!</title>
  <dc:creator>আব্দুল্যাহ আদিল মাহমুদ  </dc:creator>
  <link>https://portal.statmania.info/posts/star-vs-universe.html</link>
  <description><![CDATA[ 




<p>মহাবিশ্বের বয়স নির্ণয়ের একটি উপায়ই হলো সবচেয়ে পুরাতন নক্ষত্রের বয়স দেখা। মহাবিশ্বের জন্মের অল্প কিছুকাল পরেই নক্ষত্রের জন্ম হয়ে গিয়েছিল। মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ধরা হয় ১৩৮০ কোটি বছর। আর মনে করা হয়, সবচেয়ে প্রাচীন ভ্রুণতারার (protostar) জন্ম হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের ৩০ কোটি বছর পর।</p>
<div class="quarto-figure quarto-figure-center">
<figure class="figure">
<p><img src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizYtljb3X3TLiSDvaCz3IBSClhWKRJguDT_xqpqBxoLW-oT1I4zpbiYya5IfsGW4yaEC6fpSmcq1qifh5fgwWC6w3U7330KqfeOk5_SzKKH5kPabNjICShMYWGFZtHSP9ksJUZr0xfaU4/s640/universe.jpg" class="img-fluid figure-img"></p>
<figcaption>মহাবিশ্বের জন্মের আগেই কি নক্ষত্রের জন্ম হয়েছিল?</figcaption>
</figure>
</div>
<p>বিগ ব্যাং থেকে নক্ষত্রের জন্মের সময়টা নিয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক।</p>
<p>আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিসহ সব গ্যালাক্সিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যাসীয় মেঘ ও ধুলিকণা। প্রাথমিক অবস্থায় এদেরকে বলা হয় নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula)। সাধারণত এক একটি নেবুলা আড়াআড়িভাবে বহু আলোকবর্ষ পরিমাণ জুড়ে বিস্তৃত থাকে। একটি নেবুলাতে যে পরিমাণ গ্যাস থাকে তা দিয়েই আমাদের সূর্যের মতো কয়েক হাজার নক্ষত্রের জন্ম হতে পারে। নেবুলার অধিকাংশ উপাদানই হচ্ছে বিভিন্ন হালকা গ্যাস- বিশেষ করে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অণু। এই গ্যাস ও ধুলিকণা ঘনীভূত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণ অভিকর্ষ উৎপন্ন করলে নিজস্ব অভিকর্ষের চাপেই সঙ্কুচিত হতে থাকে। কোনো কোনো জ্যোতির্বিদ আবার মনে করেন, এই অন্তর্মুখী সঙ্কোচনের জন্য শুধু অভিকর্ষই নয়, গ্যাস ও ধুলিকণায় সৃষ্ট চৌম্বকক্ষেত্রও দায়ী।</p>
<p>গ্যাসগুলো জড় হতে হতে বিভব শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং বাড়িয়ে ফেলে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে সঙ্কোচনশীল গ্যাস বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে এক একটি আলাদা নক্ষত্র তৈরি হয়। এই তারকার অন্তর্বস্তুর সঙ্কোচনের হার হয় অনেক বেশি। এর গ্যাসীয় মেঘ অনেক দ্রুত আবর্তন করে করে এর কৌণিক ভরবেগ বজায় রাখে। এক সময় এই নক্ষত্রের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার কেলভিনে পৌঁছায়। এই অবস্থায় হাইড্রোজেন অণু ভেঙ্গে গিয়ে মৌলটির পরমাণুতে পরিণত হয়। এর তাপমাত্রা এক সময় উঠে যায় ১০ হাজার কেলভিনে। সঙ্কুচিত হয়ে সূর্যের প্রায় ৩০ গুণ আয়তন লাভ করলে এই নব-সৃষ্ট তারকাকে বলে প্রোটোস্টার বা ভ্রুণতারা (protostar)। এবার এতে হাইড্রোজেন পরমাণু জোড়া লেগে লেগে হিলিয়ামে পরিণত হতে থাকে। এই নিউক্লিয় বিক্রিয়াটিকে বলে ফিউশন বা সংযোজন (fusion) বিক্রিয়া।</p>
<p>ফিউশন বিক্রিয়া চলার সময় নক্ষত্রের নাম হয় প্রধান ক্রমের তারা (main sequence star)। আমাদের সূর্য এখন এই দশায় আছে।</p>
<p>মূল কথায় ফিরে আসা যাক। মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর হলে এর ভেতরের সব নক্ষত্রের বয়স অবশ্যই এর চেয়ে কম হওয়া উচিত। কিন্তু ২০১৩ সালে পাওয়া গেল বিপরীত এক পর্যবেক্ষণ। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ খুঁজে পেল ব্যতিক্রমী এক তারা। নাম মেথুসেলাহ। হিসেব করে এর বয়স পাওয়া যাচ্ছে ১৪৫০ কোটি বছর। যা সর্বোচ্চ ৮০ কোটি এদিক-ওদিক হতে পারে। কিন্তু মহাবিশ্বের বয়সের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্র কীভাবে এল?</p>
<p>জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ। একদল বিজ্ঞানী তাই ভাবছেন, নিশ্চয় মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে।</p>
<p>গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আশা করা হয়েছিল, এখানে একটি সমাধান মিলবে। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের মৌলিক জ্ঞানই সম্ভবত ত্রুটিপূর্ণ।</p>
<p>বড় কাঠামোয় মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলতে গেলেই চলে আসে আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা (general relativity)। নিউটনের মহাকর্ষীয় তত্ত্বের আধুনিক রূপ এটি। ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন প্রথম প্রকাশ করেন তত্ত্বটি। অনেকের মতেই, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল তত্ত্ব। ব্ল্যাক হোল থেকে শুরু কাল দীর্ঘায়ন– সব কিছুই সঠিক ব্যাখ্যা করছে তত্ত্বটি। অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাফল্যও কম নয়।</p>
<p>সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব সফল হলেও অনেক সময় এর কিছু ফলাফল দেখে অবাক হতে হয়। প্রথম অবাক হবার পালা আইনস্টাইনের নিজেরই। তিনি দেখলেন, তত্ত্ব বলছে, মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। তিনি তখনও স্থির মহাবিশ্বে বিশ্বাসী। যেমনটা ছিলেন নিউটন। আইনস্টাইন ভাবলেন, তত্ত্বে কোনো ভুল আছে। তাই তত্ত্বের সমীকরণে একটি বাড়তি ধ্রুবক লাগিয়ে সেই ভুল দূর করার চেষ্টা করলেন।</p>
<p>পরে ১৯২০ এর দশকে হাবল আবিষ্কার করলেন, সেটা কোনো ভুল ছিল না। আইনস্টাইন পরে স্বীকার করেন, এটা ছিল তাঁর জীবনের সেরা ভুল।</p>
<p>অবশেষে জানা গেল, মহাবিশ্বের একটি সূচনা আছে। অনন্তকাল ধরে মহাবিশ্ব ছিল না। তাই মহাবিশ্বের বয়স বের করার প্রচেষ্টা শুরু হলো। কিন্তু বয়স দেখে তো বিজ্ঞানীরা হতবাক। এ যে মাত্র ২০০ কোটি বছর। যেখানে পৃথিবীরই বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।</p>
<p>ফ্রেড হয়েল প্রস্তাব করলেন, মহাবিশ্বের আসলে সূচনা-টূচনা বলে কিছু নেই। সব বাজে কথা। মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে টিকে আছে একইভাবে। নিজের মত প্রমাণ করতে তিনি আইনস্টাইনের সমীকরণও ব্যবহার করলেন। তবে তাঁর সমাধান সমস্যা কমানোর চেয়ে বাড়াতেই বেশি অবদান রাখল। নতুন পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেল, মহাবিশ্বের বয়স ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন বছর হয়। মানে এক হাজার থেকে দুই হাজার কোটি বছর। গ্রহণযোগ্য এই মতের চাপে হয়েলের মত বাতিল হয়ে গেল।</p>
<p>কিন্তু সমাধান কি আদৌ হয়েছে? বয়সের সমস্যা হাজির হয়েছে আবারও। গত মাসের সম্মেলনে বয়স নিয়ে বেশ কজন বিজ্ঞানী নতুন করে হিসেব দিয়েছেন। কিছু দিন আগে হলেও এসব নতুন হিসেবকে কেউ পাত্তা দিতেন না। বিগ ব্যাংয়ের পরবর্তী সময়ে নির্গত হয় মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিকিরণ (cosmic microwave background)। যার রেশ আছে আজকের পৃথিবী ও মহাবিশ্বেও। এই বিকিরণের তথ্য কাজে লাগিয়ে মহাবিশ্বের বয়সের নির্ভরযোগ্য হিসেব পাওয়া যায়।</p>
<p>পটভূমি বিকিরণ দিয়ে পাওয়া হিসেবের সাথে মিলে যায় সরাসরি বের করা হিসেবও। দূরের ছায়াপথের নক্ষত্রের প্রসারণ দেখে মহাবিশ্বের প্রসারণ বেগ বের করা যায়। সেখান থেকে জানা যায়, মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় আসতে কত সময় নিয়েছিল। এই দুটি হিসেব দারুণভাবে মিলে যায়। একই সাথে হিসেবটি ছিল দারুণ সূক্ষ্ম।। আবার সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্রের বয়সের চেয়ে এই বয়স বেশিও ছিল। ফলে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল।</p>
<p>কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহাবিশ্বের দুটো বয়স আলাদা। পার্শ্ববর্তী ছায়াপথদের কাজে লাগিয়ে পাওয়া বয়সের সাথে বিকিরণ থেকে হিসেব করা বয়সের পার্থক্য কয়েক হাজার কোটি বছর। যাকে হেসে উড়িয়ে দেওয়া অসম্ভব। তাও আবার দেখা যাচ্ছে মহাবিশ্বের চেয়ে পুরাতন নক্ষত্রেরও অস্তিত্ব আছে।</p>
<p>এত কিছু যে নক্ষত্র নিয়ে তার নাম এইচডি ১৪০২৮৩। অন্য তারার মতোই খটমটে এক নাম। তবে ডাক নামও আছে একখান। মেথুসেলাহ। ১৯১২ সাল থেকেই নক্ষত্রটি বিজ্ঞানীদের চেনা। দূরত্বও পৃথিবী থেকে বেশি নয়— মাত্র ১৯০ আলোকবর্ষ।</p>
<p>বিজ্ঞানীরা এখন জানেন, নক্ষত্রটিতে লোহার পরিমাণ খুব সামান্য। তার মানে এর জন্ম হয়েছিল এমন সময় যখন মহাবিশ্বে লোহা খুব কম ছিল। আর তার মানে এর বয়স অন্তত মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি।</p>
<p>তাহলে কি মহাবিশ্বের বয়স বের করতেই ভুল হয়েছে? প্রসারণ থেকে মহাবিশ্বের বয়স বের করতে হলে অনেক কিছুই সঠিকভাবে জানা দরকার। এই যেমন ছায়াপথরা একে অপর থেকে কত বেগে সরে যাচ্ছে, কত দূরে থাকলে কত দ্রুত সরছে ইত্যাদি। আর দূরের ছায়াপথের ক্ষেত্রে এই মানগুলো বিজ্ঞানীরা বের করেন অনেক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে।</p>
<p>এটা যাচাই করার জন্য অন্য উপায়ে প্রসারণ বের করতে হয়। বিকল্প এসব উপায়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো মহাকর্ষ তরঙ্গ। ভারী নক্ষত্রদের মিলনে সৃষ্ট স্থান-কালের ঢেউ।</p>
<p>গত মাসের সম্মেলনের বেশ কয়েক দিন আগে এ বিষয়ে নেচার অ্যাস্ট্রোনোমি জার্নালে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এখানে মহাকর্ষ তরঙ্গ দিয়ে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার দেখানো হয়। ব্যবহার করা হয় ২০১৭ সালের একটি মহাকর্ষ তরঙ্গ।</p>
<p>কিন্তু এই হার দিয়েও মেথুসেলাহ নক্ষত্রের রহস্যের সমাধান হচ্ছে না। সমাধান হচ্ছে না মহাজগতের বয়স সমস্যারও। কেউ কেউ তাই আবার পদার্থবিদ্যার আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।</p>



 ]]></description>
  <category>নক্ষত্র</category>
  <category>মহাবিশ্ব</category>
  <category>কসমোলজি</category>
  <guid>https://portal.statmania.info/posts/star-vs-universe.html</guid>
  <pubDate>Mon, 09 Oct 2017 18:00:00 GMT</pubDate>
  <media:content url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizYtljb3X3TLiSDvaCz3IBSClhWKRJguDT_xqpqBxoLW-oT1I4zpbiYya5IfsGW4yaEC6fpSmcq1qifh5fgwWC6w3U7330KqfeOk5_SzKKH5kPabNjICShMYWGFZtHSP9ksJUZr0xfaU4/s640/universe.jpg" medium="image" type="image/jpeg"/>
</item>
</channel>
</rss>
