সেরেস: গ্রহাণু নাকি বামন গ্রহ?
সেরেস পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের বামন গ্রহ। আবিষ্কারের পরপর তো একে গ্রহই মনে করা হয়েছিল। ১৮০১ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ইতালীয় জ্যোতির্বিদ জিওযেপ্পে পিয়াৎসি বস্তুটি আবিষ্কার করেন। গ্রহাণু বেষ্টনীতে অবস্থিত একমাত্র বামন গ্রহ এটি। এ কারণেই শুরুতে পরে এর পরিচয় দাঁড়ায় গ্রহাণু। তবে বর্তমানে এটি বামন গ্রহ হিসেবেই পরিচিত।

এটি ছাড়া আর কোনো বামক্ন গ্রহ সূর্যের রত কাছে নেই। নেপচুনের কক্ষপথের ভেতরেই নেই আর কোনো বামন গ্রহ। সৌরজগতের পরবর্তী বামন গ্রহ প্লুটো আছে নেপচুন গ্রহের পরেই।
সেরেস চাঁদের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ চওড়া। আকাশ অনেক বেশি অন্ধকার না হলে একে খালি সাধারণত দেখা যায় না। ২০১৫ সালে নাসার ডন মহাকাশযান সেরেসকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে। এসময়ে এই যানটিই প্রথমবারের মতো সেরেসকে প্রদক্ষিণও করে। যানটি সেরেসের পৃষ্ঠে পানি ও বরফসহ বিভিন্ন খনিজের প্রমান পায়। বামন গ্রহটির খুবই পাতলা একটি বাষ্পীয় বায়ুমণ্ডল আছে।
অষ্টাদশ শতকে সৌরকেন্দ্রিক নমুনা স্বীকৃত হয়। ১৮৪৬ সালে পাওয়া যায় নেপচুন গ্রহ। তখনি জ্যোতির্বিদরা ধারণা করেন, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে আরেকটি গ্রহ আছে। শেষ পর্যন্ত পিয়াৎসি বস্তুটি আবিষ্কার করেন। এক শতকের বেশি সময়জুড়ে এটি গ্রহ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।
কিন্তু নতুন নতুন আবিষ্কারের সাথে সাথে বোঝা যায়, গ্রহদের সাথে গ্রহাণুদের কিছু মৌলীক পার্থক্য আছে। ১৮৫০ সালের পর তাই একে শুধুই গ্রহাণু বা হত। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি প্লুটোকে গ্রহের খাতা থেকে বাদ দেয়। প্রধান কারণ, নিজ্বস স্বাধীন কক্ষপথ না থাকা ও ক্ষুদ্র আকার। নতুন পরিচয় হয় বামন গ্রহ। একইসময় সেরেসও নাম লেখায় বামন গ্রহের খাতায়।
গ্রহাণু পরিচয়ের সেরেসই ছিল সবচেয়ে বড় গ্রহাণু। বর্তমানে নাসার মতে তাই সবচেয়ে বড় গ্রহাণু ভেস্টা। যদিও পুরো গ্রহাণুবেষ্টনীর ৪০ ভাগ ভর সেরেসের একার। এ বেষ্টনীতে অবস্থান হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই এটি আছে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে। সূর্যকে ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৪ বছর ২২০ দিন। প্রায় ৯ ঘণ্টায় এটি একবার নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘোরে৷ এর কোনো চাঁদ বা উপগ্রহ নেই।
মঙ্গল গ্রহ বা ইউরোপা ও টাইটান উপগ্রহদের মতো বাসযোগ্যতার আলোচনায় সেরেস অতটা আলোচিত হয় না। তবে অন্তঃস্থ সৌরজগতের পৃথিবীর পরে সবচেয়ে বেশি পানি আছে এই বস্তুটিতেই। এতে জৈবরাসায়নিক উপাদানের মধ্যে আছে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন।
সূত্র
- নাসা সায়েন্স: সেরেস
- [নাসা সায়েন্স: গ্রহাণু]https://science.nasa.gov/solar-system/asteroids/)
- উইকিপিডিয়া: সেরেস