সৌরজগতের ধূমকেতুর দুই উৎস কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউড

সৌরজগৎ
সূর্য
কাইপের বেল্টের বিস্তৃতি সূর্য থেকে ৩০ থেকে ৫০ এইউ পর্যন্ত। এক এইউ পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দুরত্বের সমান। উর্ট ক্লাউড অবশ্য কাইপার বেল্টের তুলনায় অনেক দূরে আছে। এটি সূর্যের ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ এইউ পর্যন্ত বিস্তৃত।

সৌরজগতের ধূমকেতুর দুই প্রধান উৎস কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউড। কাইপের বেল্টের বিস্তৃতি সূর্য থেকে ৩০ থেকে ৫০ এইউ পর্যন্ত। এক এইউ পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দুরত্বের সমান। যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইলের সমান। উর্ট ক্লাউড অবশ্য কাইপার বেল্টের তুলনায় অনেক দূরে আছে। এর বিস্তৃতি সূর্যের ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ এইউ পর্যন্ত।

কাইপার বেল্ট ও উর্ট ক্লাউডের তুলনা

দুটি অঞ্চলই শীতল। কারণ অবশ্যই সূর্য থেকে দূরত্বের বিশালতা। কাইপার বেল্টের আকৃতি ডোনাটের মতো। নেপচুন গ্রহের ঠিক বাইরে পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। বামন গ্রহ প্লুটো, হাউমেয়া ও এরিসের অবস্থান এর ভেতরেই। স্বল্প-মেয়াদী ধূমকেতুগুলোও এখান থেকে আসে। এ ধূমকেতুগুলোর পর্যায়কাল ২০০ বছরের কম। সৌরজগৎ সৃষ্টির পর থেকে যাওয়া পদার্থের অবশিষ্টাংশ দিয়ে তৈরি এ বেল্টখানা।

এর আকৃতি অনেকটা মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে থাকা গ্রহাণু বেষ্টনীর মতো। তবে সে তুলনায় আকারে অনেক বড়। সৌরজগতের বেশিরভাগ বামন গ্রহের অবস্থান এখানেই। ১৯৫১ সালে ডাচ জ্যোতির্বিদ গেরিট কাইপার এমন একটি জিনিসের অনুমান করেন। যদিও আগে-পরে অনেকেই তা ধারণা করেছিলেন।

অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী ধূমকেতুর জন্মস্থান উর্ট ক্লাউড। কাইপার বেল্টের তুলনায় অনেক বেশি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এটি। আকৃতি গোলকীয়। সৌরজগতের শেষ সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে এ হিমশীতল বস্তুর মেঘটি। ১৯৫০ সালে জ্যোতির্বিদ জ্যান উর্ট ধূমকেতুর উৎস হিসেবে এমন একটি জায়গার কথা প্রস্তাব করেন।

এ জায়গটা কত বিস্তৃত তা বুঝতে একটু আলোর ভ্রমণ নিয়ে ভাবুন। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে মাত্র ৮ মিনিটের মতো সময় লাগে। পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের মহাকাশযান ভয়েজার ১। সেখানে পৌঁছতে সূর্যের আলোর লাগে একদিনের কম। অথচ উর্ট মেঘের ভেতরে ঢুকতেই সূর্যের আলোর লাগে আরও ১০ থেকে ২৮ দিন। আর মেঘটির এলাকা থেকে পুরোপুরি বের হতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে।

সবচেয়ে বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর উৎপত্তি উর্ট ক্লাউডে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়াও আছে লক্ষ-কোটি হিমেল পাহাড়ের আকারের ধূমকেতু। জমে বরফ হয়ে থাকা পানি, অ্যামোনিয়া ও মিথেন গ্যাস আছে এখানে। জিনিসটার অস্তিত্ব এখনও পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত নয়। তবে ধূমকেতুর উৎস হিসেবে জায়গাটি অনুমিত। এ অঞ্চলটিই সূর্যের সাথে আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থানের সীমানা হিসেবেও কাজ করে।

সূত্র