কতরকম ধূমকেতু!
সৌরজগতের সুন্দর এক জিনিস ধূমকেতু। অবয়ব যেমন সুন্দর, তেমনি বিচিত্র এদের কক্ষপথ। কক্ষপথ বা উৎসভেদে এরা নানানরকম হতে পারে।
কমেট বা ধূমকেতুরা মূলত ধুলি ও বরফ দিয়ে গড়া। ভাসতে ভাসতে সূর্যের কাছে চলে এলে বেড়ে যায় তাপমাত্রা। ফলে গ্যাস ও বরফ নিঃসৃত হয়। কেন্দ্রের নিরেট নিউক্লিয়াস ঢাকা পড়ে যায়। চারপাশে তৈরি হয় কোমা নামের ধূসর মেঘ। পাশাপাশি তৈরি হয় এক বা একাধিক লেজ। মহাকাশে চলার পথের ওপর নির্ভর করে ধূমকেতুকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
স্বল্পকালীন বা স্বল্প পর্যায়ের ধূমকেতুরা ২০০ বছরের মধ্যেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এর সবচেয়ে বিখ্যাত নমুনা হ্যালির ধূমকেতু। যেটি ৭৬ বছরে একবার পুরো কক্ষপথ ঘুরে আসে। ১৯৮৬ সালে একে সর্বশেষ পৃথিবীর আকাশে দেখা গেছে। আবার দেখা যাবে ২০৬১ সালে।

কক্ষপথে ঘুরে আসার সময় বা পর্যায়কাল ২০ বছরের কম হলে তাদেরকে বলে বৃহস্পতি-পরিবারের ধূমকেতু। এদের অবস্থান গ্রহটি থেকে বেশি দূরে হয় না। কক্ষপথ প্রভাবিত হয় বৃহস্পতি ও অন্য গ্রহ দ্বারা।
পর্যায়কাল ২০ থেকে ২০০ বছরে মধ্যে হলে বলা হয় হ্যালি-টাইপ ধূমকেতু। অবস্থান বৃহস্পতি গ্রহ থেকে বামন গ্রহ প্লুটোর মধ্যে।
কিছু কিছু ধূমকেতু ঘুরতে ঘুরতে সূর্যের অনেক কাছে চলে যায়। নাম সানগ্রেজিং বা সূর্যস্পর্শী ধূমকেতু। এরা বেশিদিন টিকে থাকে না। সূর্যের তেজে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। এমনকি পুরোপুরি বাষ্পীভূতও হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনা পৃথিবীর কক্ষপথের আশেপাশে ঘটলে আমরা উল্কা দেখতে পাই। অবশ্যই এটা উল্কার একমাত্র উৎস নয়।

ধূমকেতুর পর্যায়কাল আরও অনেক বেশিও হতে পারে। হতে পারে ২০০ থেকে শুরু করে ১০ লাখ বছরের বেশি। এদের নাম দীর্ঘকালীন ধূমকেতু। সৌরজগতের শেষ সীমানা ওর্ট মেঘ থেকে আসে এরা।
তবে অনেকের আবার নির্দিষ্ট পর্যায় নেই৷ এদের কক্ষপথ আবদ্ধ নয়। কোনো গ্রহের, বিশেষ করে বৃহস্পতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গতি পেয়ে গেলে চলে যেতে পারে সৌরজগতের বাইরে। পাড়ি জমাতে পারে আন্তঃনাক্ষত্রিক জগতে। সূর্যের মহাকর্ষকে ফাঁকি দিয়ে হারিয়ে যাওয়া এসব ধূমকেতু আর কখনো সৌরজগতেই ফেরত আসবে না।
কিছু কিছু ধূমকেতু আবার সৌরজগতেরই বস্তু নয়। বাইরে থেকে এসে আবার ঘুরে চলে যায়। এদের নাম এক্সোকমেট বা বহির্ধূমকেতু। এমন দুটি ধূমকেতুর নাম ১এল/ওমুয়ামুয়া ও ২এল/বোরিসভ। ওমুয়ামুয়া ২০১৭ সালে ও বোরিসভ ২০১৯ সালে সৌরজগতের ভেতর দিয়ে উড়ে যায়।
সূত্র: ESA




