গ্যানিমিড: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ
সৌরজগতের আটটি গ্রহের মোট উপগ্রহের সংখ্যা অন্তত ৪৬৭টি। যদিও বুধ ও শুক্র গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই। এদের সবার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভারী উপগ্রহের নাম গ্যানিমিড। সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিরই উপগ্রহ এটি। মজার ব্যাপার হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহটিও দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহের চারপাশে ঘোরে। সেটি আর কিছুই নয়, শনির উপগ্রহ টাইটান।
টাইটান ও গ্যানিমিড দুটো চাঁদই বুধ গ্রহের চেয়েও বড়। তবে গ্যানিমিডের পৃষ্ঠে মহাকর্ষ বুধ বা আমাদের চাঁদের চেয়েও কম। এর মূল কারণ, উপগ্রহটির নিম্ন ঘনত্ব। উপগ্রহটি সাত দিনে একবার বৃহস্পতিকে ঘুরে আসে।
১৬১০ সালের জানুয়ারি মাসের সাত তারিখে উপগ্রহটি আবিষ্কৃত হয়। একই সালে দুই আলাদা জ্যোতির্বিদ এটি পর্যবেক্ষণ করেন। একজন জার্মান জ্যোতির্বিদ সাইমন ম্যারিয়াস। প্রথম আবিষ্কৃত উপগ্রহের মধ্যে এটি তৃতীয়। অপর তিনটির নাম ক্যালিস্টো, আয়ো ও ইউরোপা। এদের আবিষ্কারের মাধ্যমেই প্রথম জানা যায়, মহাবিশ্বের সবকিছু পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না। দেখাই যাচ্ছে, এরা বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

জানুয়ারির ৭ তারিখেই গ্যালিলিও চারটি উপগ্রহকে একসাথে দেখেন৷ অবশ্য আয়ো ও ইউরোপা তখন কাছাকাছি থাকায় দুটোকে একটি বস্তুই মনে হচ্ছিল। তিনি প্রথম এদেরকে নক্ষত্র মনে করেছিলেন। পরের রাতে দেখলেন, এরা আগের জায়গা থেকে সরে গেছে। ১৩ তারিখে প্রথমবারের মতো সবগুলোকে আলাদাভাবে দেখলেন। জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে নিশ্চিত হয়ে যান, এরা আসলে বৃহস্পতির উপগ্রহ। কিছু বিতর্ক থাকলেও ধারণা করা হয় সাইমন ম্যারিয়াসও আলাদাভাবে চার গ্যালিলীয় উপগ্রহ খুঁজে পেয়েছিলেন।
গ্যানিমিডের প্রধান উপাদান সিলিকেট পাথর ও পানি। কেন্দ্রের কোরে আছে তরল ধাতব পদার্থ। অভ্যন্তরের সমুদ্রে সম্ভবত পৃথিবীর সব পানির চেয়েও বেশি পানি আছে। সৌরজগতের প্রাকৃতিক উপগ্রহদের মধ্যে একমাত্র গ্যানিমিডের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্র আছে। পাতলা বায়ুমণ্ডলে আছে অক্সিজেন।
আমাদের চাঁদ ও বেশিরভাগ উপগ্রহের মতো গ্যানিমিড সবসময় গ্রহের দিকে এক মুখ করে থাকে। বৃহস্পতিকে ঘুরছে ১০ লাখ ৭০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে। উপগ্রহটি ৫২৭০ কিলোমিটার চওড়া। ভর শনির উপগ্রহ টাইটানের চেয়ে খানিকটা বেশি। তবে আমাদের চাঁদের দ্বিগুণের বেশি। আকারে বুধের চেয়েও বড় হলেও ভর বুধের মাত্র ৪৫ ভাগ।

গ্যানিমিডকে কাছ থেকে প্রথম পর্যবেক্ষণ করে পাইওনিয়ার ১০ মহাকাশযান। ভয়েজার ১ ও ২ যান উপগ্রহটির আকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য উদ্ধার করে। মহাকাশযান গ্যালিলিও উপগ্রহটির সমুদ্র ও চৌম্বকক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ২০২৩ সালে গ্যানিমিডের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় JUICE অভিযান। এটি প্রথমবারের মতো উপগ্রহটিকে কেন্দ্র করে ঘুরবে। আগের সবাই শুধু পাশ দিয়ে এক বা একাধিকবার উড়ে গিয়েছিল।
- স্পেসফ্লাইট
- উইকিপিডিয়া: গ্যানিউমিড, উপগ্রহের তালিকা