মহাকাশযান গ্রহাণুবেষ্টনী পার হয় কীভাবে?
ভয়েজার মহাকাশযান বৃহস্পতি গ্রহে পৌঁছানোর আগে বিজ্ঞানীরা একটি বিষয় নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। মহাকাশযানটি কি আদৌ অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট বা গ্রহাণুবেষ্টনী ভেদ করে যেতে পারবে?

পৃথিবী থেকে এই বেল্টকে মারাত্মক এক বিপজ্জনক এলাকা মনে হতো। জায়গাটা সৌরজগগতের ভেতরের এবং বাইরের গ্রহগুলোর মাঝখানে অবস্থিত। পাথর ও মহাশূন্যের আবর্জনার এক বিশাল এক চারণভূমি এ এলাকা। এই অঞ্চলটি অনেক বেশি ঘন হলে গ্রহাণুর একটি ছোট আঘাতই ভয়েজারকে শেষ করে দিতে পারত। কোনো গ্রহ দেখার অনেক আগেই সমাপ্তি ঘটত অভিযানের।
ভয়েজারের আগে পাইওনিয়ার ১০ এবং পাইওনিয়ার ১১ এই বেষ্টনী সফলভাবে অতিক্রম করেছিল। এ সাফল্য নাসাকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। তবুও ভয়েজার এমন এক অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যাকে একসময় সৌরজগতের একটি বিপজ্জনক বাধা মনে করা হতো।
এরপর দুটি ভয়েজার ১ ও ২ দুই মহাকাশযানই নিরাপদে এই অঞ্চলটি পার হয়ে যায়।
এর মাধ্যমে আরও কিছু দারুণ ব্যাপার জানা যায়। গ্রহাণুবেষ্টনীর অস্তিত্ব আসলেই আছে, তবে এটি পাথরের কোনো ঘন বা নিরেট দেয়াল নয়। এর ভেতরের বস্তুগুলো সৌরজগতের এক বিশাল আয়তন জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তবে এদের একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব অনেক বেশি।
আসলে, গ্রহাণু বলয়টি অন্ধকারের কোনো দানব ছিল না। এটি ছিল মূলত এক বিশাল (প্রায়) খালি জায়গা।