হট জুপিটার কাকে বলে?
হট জুপিটার বা উষ্ণ বৃহস্পতি নামের গ্রহরা দেখতে আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের মতো। আকার ও উপাদান বৃহস্পতির মতোই। তবে আবার বড় একটি পার্থক্য আছে। বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় গ্রহরা সাধারণত সূর্য থেকে অনেক দূরে থাকে। বৃহস্পতি-ই তো দূরত্বের দিক থেকে সূর্য থেকে পঞ্চম অবস্থানে আছে। ফলে এদের তাপমাত্রাও অনেক কম। বৃহস্পতির উপরের বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা নেমে আসতে পারে মাইনাস ১৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত।

এখানেই হট জুপিটাররা আলাদা। এদের তাপমাত্রা অনেক বেশি। কারণ এরা থাকেই সূর্যের খুব কাছে। সাধারণত সূর্যের কাছের গ্রহরা শক্ত বা কঠিন উপাদান দিয়ে গঠিত হয়। এই যেমন সৌরজগতের প্রথম চার গ্রহ: বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল। পরের চারটি গ্রহ গ্যাসীয় দানব। কিন্তু হট জুপিটার গ্রহরা নক্ষত্রের কাছে থেকেও গ্যাসীয় অবস্থা বজায় রাখে। নক্ষত্রের কাছে থাকে বলে এরা খুব অল্প সময়েই নক্ষত্রকে ঘুরে আসে। এমনকি ১০ দিনের কমেই অনেকে তা করে ফেলে। যেখানে পৃথিবীরই সূর্যকে ঘুরে আসতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন।
এরা এদের নক্ষত্রের খুব কাছে থাকে বলে অনেক বেশি উত্তপ্ত থাকে। এসব গ্রহে দিনের বেলায় তাপমাত্রা থাকে এক হাজার থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর চাঁদ যেমন সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, হট জুপিটাররাও সাধারণত সবসময় সূর্যের দিকে এক মুখ করে থাকে। এ বৈশিষ্ট্যকে বলে টাইডাল লকিং। ফলে এদের এক পাশে সবসময় রাত ও অপর পাশে দিন থাকে।
দুই পাশের আবহাওয়াও তাই আলাদা। এ কারণে বায়ুর গতিও হয় প্রচণ্ড। ঘণ্টায় কয়েক হাজার মাইল বেগে ধেয়ে চলে।এদের বায়ুমণ্ডলে মিথেন বা পানির বদলে থাকে পাথর বা সিলিকেট কণার বাষ্প। বাতাসের প্রচণ্ড বেগের কারণে কিছু কিছু হট জুপিটার গ্রহে তো কাঁচের বৃষ্টিও হয়।
গ্যাস জায়ান্ট বা গ্যাসীয় দানবরা সাধারণত সূর্য থেকে দূরে তৈরি হয়। এ কারণে হট জুপিটার এখনও জ্যোতির্বিদদের কাছে এক বিস্ময়ের নাম।