অদ্ভুত যে গ্রহ মৃত তারার চারপাশে ঘোরে
সব নক্ষত্র সূর্যের মতো জ্বলে না। একসময় মারা যায়। যেমন সূর্যও একসময় মারা যাবে। সময়টা আসবে আরও প্রায় ৫০০ কোটি বছর পরে। মৃত তারার চারপাশে ঘোরা গ্রহও আর স্বাভাবিক থাকে না। পরিণত হয় এক ধ্বংসস্তূপে। কিন্তু আমাদের আজকের আলোচিত গ্রহটি তা নয়। নাম ডাব্লিউডি ১৮৫৬ বি।
সূর্যের মতো নক্ষত্ররা জীবনের শেষ দিকে লোহিত দানবে পরিণত হয়। তখন এদের বাইরের অংশ বড় হয়ে একসময় আলাদা হয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশ মহাকর্ষের টানে গুটিয়ে ছোট হয়ে যায়। এই উত্তাল রূপান্তরের সময় নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশগুলো বিভিন্ন আলাদা আলাদা কক্ষপথে চলতে থাকে।
কিন্তু ডাব্লিউডি ১৮৫৬ বি বেঁচে যাওয়া এক গ্রহ।
বিশাল এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮২ আলোকবর্ষ দূরে একটি শ্বেত বামনকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। গ্রহটি তার নক্ষত্রের চেয়ে আকারে প্রায় সাত গুণ বড়। তাই এটি যখন নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের প্রায় ৫৬% আলো আটকে দেয়।
সম্প্রতি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করেছে। প্রাপ্ত ফলাফল চমকে দিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদেরকে। শ্বেত বামন নক্ষত্রটির বয়স এবং আবছা আলোর ওপর ভিত্তি করে গ্রহটির তাপমাত্রা হওয়ার কথা ছিল প্রায় −১১৩°সি। কিন্তু পরিমাপ করে তাপমাত্রা পাওয়া গেছে প্রায় ১২৬°সি। পার্থক্যটা অনেক বেশি।
রহস্যটি আরও ঘনীভূত হয় আরেকটি কারণে। গ্রহটির আকার প্রায় বৃহস্পতি গ্রহের মতো হলেও এর ভর বৃহস্পতির সাত গুণেরও বেশি। এর ভর, তাপমাত্রা এবং বর্তমান কক্ষপথ—সবকিছুই এক অশান্ত অতীতের ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, ডাব্লিউডি ১৮৫৬ বি গ্রহটি যেখানে তৈরি হয়েছিল সেখানে বসে থাকেনি। নক্ষত্রটি শ্বেত বামনে পরিণত হওয়ার অনেক পরের কথা। সম্ভবত কাছাকাছি থাকা অন্য নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় প্রভাব গ্রহটিকে ভেতরের দিকে ঠেলে দেয়। এ সময় গ্রহটিতে তীব্র মহাকর্ষীয় উত্তাপ তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় অন্য বড় বস্তুর প্রভাবে গ্রহ বা চাঁদ বারবার সংকুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে।
অন্য কথায়, নক্ষত্রের মৃত্যুর কোটি কোটি বছর পর গ্রহটি হয়তো আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে।
এই গ্রহটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নক্ষত্রের মৃত্যু হলেই তার গ্রহেরও ইতি ঘটে যাবে এমন কোনো কোথা নেই। কিছু কিছু গ্রহ এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যায়। কেউ কেউ কক্ষপথ বদলে ফেলে। প্রবেশ করে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়ে।
নক্ষত্রটি মারা গেছে ঠিকই, কিন্তু তার একটি গ্রহ হয়তো জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছে।



